অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ – রিয়াদুস সালেহীন

অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ – রিয়াদুস সালেহীন

অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ – রিয়াদুস সালেহীন >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ৭২: অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿تِلۡكَ ٱلدَّارُ ٱلۡأٓخِرَةُ نَجۡعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوّٗا فِي ٱلۡأَرۡضِ وَلَا فَسَادٗاۚ وَٱلۡعَٰقِبَةُ لِلۡمُتَّقِينَ٨٣﴾ [القصص: ٨٣] 

অর্থাৎ “এ আখেরাতের আবাস; যা আমি নির্ধারিত করি তাহাদেরই জন্য যারা এ পৃথিবীতে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করিতে চায় না। আর মুত্তাকীদের জন্যই রয়েছে শুভ পরিণাম।” [সূরা ক্বাসাস ৮৩ আয়াত]

তিনি অন্য জায়গায় বলেন,

 ﴿ وَلَا تَمۡشِ فِي ٱلۡأَرۡضِ مَرَحًاۖ ﴾ [الاسراء: ٣٧] 

অর্থাৎ “ভূ-পৃষ্ঠে দম্ভভরে বিচরণ করো না, তুমি তো কখনোই পদভারে ভূ-পৃষ্ঠ বিদীর্ণ করিতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনোই পর্বত-প্রমাণ হতে পারবে না।” [সূরা ইসরা ৩৭ আয়াত]

তিনি আরো বলেন,

﴿ وَلَا تُصَعِّرۡ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمۡشِ فِي ٱلۡأَرۡضِ مَرَحًاۖ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخۡتَالٖ فَخُورٖ ١٨ ﴾ [لقمان: ١٨] 

অর্থাৎ “মানুষের জন্য নিজের গাল ফুলায়ো না এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ করো না; কারণ আল্লাহ কোন উদ্ধত, অহংকারীকে ভালবাসেন না।” [সূরা লুকমান ১৮ আয়াত]

‘গাল ফুলায়ো না’ অর্থাৎ অহংকারের সাথে চেহারা বিকৃত করো না।

মহান আল্লাহ কারূন সম্বন্ধে বলেন,

﴿ ۞إِنَّ قَٰرُونَ كَانَ مِن قَوۡمِ مُوسَىٰ فَبَغَىٰ عَلَيۡهِمۡۖ وَءَاتَيۡنَٰهُ مِنَ ٱلۡكُنُوزِ مَآ إِنَّ مَفَاتِحَهُۥ لَتَنُوٓأُ بِٱلۡعُصۡبَةِ أُوْلِي ٱلۡقُوَّةِ إِذۡ قَالَ لَهُۥ قَوۡمُهُۥ لَا تَفۡرَحۡۖ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلۡفَرِحِينَ ٧٦ وَٱبۡتَغِ فِيمَآ ءَاتَىٰكَ ٱللَّهُ ٱلدَّارَ ٱلۡأٓخِرَةَۖ وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ ٱلدُّنۡيَاۖ وَأَحۡسِن كَمَآ أَحۡسَنَ ٱللَّهُ إِلَيۡكَۖ وَلَا تَبۡغِ ٱلۡفَسَادَ فِي ٱلۡأَرۡضِۖ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلۡمُفۡسِدِينَ ٧٧ قَالَ إِنَّمَآ أُوتِيتُهُۥ عَلَىٰ عِلۡمٍ عِندِيٓۚ أَوَ لَمۡ يَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ قَدۡ أَهۡلَكَ مِن قَبۡلِهِۦ مِنَ ٱلۡقُرُونِ مَنۡ هُوَ أَشَدُّ مِنۡهُ قُوَّةٗ وَأَكۡثَرُ جَمۡعٗاۚ وَلَا يُسۡ‍َٔلُ عَن ذُنُوبِهِمُ ٱلۡمُجۡرِمُونَ ٧٨ فَخَرَجَ عَلَىٰ قَوۡمِهِۦ فِي زِينَتِهِۦۖ قَالَ ٱلَّذِينَ يُرِيدُونَ ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَا يَٰلَيۡتَ لَنَا مِثۡلَ مَآ ُوتِيَ قَٰرُونُ إِنَّهُۥ لَذُو حَظٍّ عَظِيمٖ ٧٩ وَقَالَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡعِلۡمَ وَيۡلَكُمۡ ثَوَابُ ٱللَّهِ خَيۡرٞ لِّمَنۡ ءَامَنَ وَعَمِلَ صَٰلِحٗاۚ وَلَا يُلَقَّىٰهَآ إِلَّا ٱلصَّٰبِرُونَ ٨٠ فَخَسَفۡنَا بِهِۦ وَبِدَارِهِ ٱلۡأَرۡضَ فَمَا كَانَ لَهُۥ مِن فِئَةٖ يَنصُرُونَهُۥ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَمَا كَانَ مِنَ ٱلۡمُنتَصِرِينَ ٨١ ﴾ [القصص: ٧٦،  ٨١] 

অর্থাৎ “কারূন ছিল মূসার সম্প্রদায়ভুক্ত, কিন্তু সে তাহাদের প্রতি যুলুম করেছিল। আমি তাকে ধনভান্ডার দান করেছিলাম যার চাবিগুলি বহন করা একদল বলবান লোকের পক্ষেও কষ্টসাধ্য ছিল। স্মরণ কর, তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, দম্ভ করো না, আল্লাহ দাম্ভিকদেরকে পছন্দ করেন না। আল্লাহ যা তোমাকে দিয়েছেন তার মাধ্যমে পরলোকের কল্যাণ অনুসন্ধান কর। আর তুমি তোমার ইহলোকের অংশ ভুলে যেয়ো না। তুমি [পরের প্রতি] অনুগ্রহ কর, যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিতে চেয়ো না। আল্লাহ অবশ্যই বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে ভালবাসেন না। সে বলিল, ‘এ সম্পদ আমি আমার জ্ঞানবলে প্রাপ্ত হয়েছি।’ সে কি জানত না আল্লাহ তার পূর্বে বহু মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করিয়াছেন যারা তার থেকেও শক্তিতে ছিল প্রবল, সম্পদে ছিল প্রাচুর্যশালী? আর অপরাধীদেরকে তাহাদের অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাও করা হবে না। কারূন তার সম্প্রদায়ের সম্মুখে জাঁকজমক সহকারে বাহির হল। যারা পার্থিব জীবন কামনা করত তারা বলিল, আহা! কারূনকে যা দেওয়া হয়েছে সেরূপ যদি আমাদেরও থাকত; প্রকৃতই সে মহা ভাগ্যবান। আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল তারা বলিল, ধিক্ তোমাদের! যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে তাহাদের জন্য আল্লাহর পুরস্কারই শ্রেষ্ঠ। আর ধৈর্যশীল ব্যতীত তা অন্য কেউ পায় না। অতঃপর আমি কারূনকে ও তার প্রাসাদকে মাটিতে ধসিয়ে দিলাম। তার স্বপক্ষে এমন কোন দল ছিল না যে আল্লাহর শাস্তির বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করিতে পারত এবং সে নিজেও আত্মরক্ষায় সক্ষম ছিল না।” [সূরা ক্বাস্বাস ৭৬-৮১ আয়াত]

1/617 وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ مَسعُودٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ، قَالَ: «لاَ يَدْخُلُ الجَنَّةَ مَنْ كَانَ في قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّة مِنْ كِبْرٍ ! » فَقَالَ رَجُلٌ: إنَّ الرَّجُلَ يُحِبُّ أنْ يَكُونَ ثَوْبُهُ حَسَناً، ونَعْلُهُ حَسَنَةً ؟ قَالَ:«إنَّ اللهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الجَمَالَ، الكِبْرُ: بَطَرُ الحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ » رواه مسلم

১/৬১৭। আব্দুল্লাহ ইবনি মাসঊদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহঙ্কার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারবে না।’’ একটি লোক বলিল, ‘মানুষ তো ভালবাসে যে, তার পোশাক সুন্দর হোক ও তার জুতো সুন্দর হোক, [তাহলে]?’ তিনি বলিলেন, ‘‘আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যকে ভালবাসেন। [সুন্দর পোশাক ও সুন্দর জুতো ব্যবহার অহংকার নয়, বরং] অহংকার হল, সত্য প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।’’ [মুসলিম] [1]

2/618 وَعَن سَلَمَةَ بنِ الأكوَعِ رضي الله عنه: أنّ رَجُلاً أكَلَ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ ﷺ بِشِمَالِهِ، فَقَالَ: «كُلْ بيَمِينِكَ» قَالَ: لاَ أسْتَطِيعُ ! قَالَ: « لاَ اسْتَطَعْتَ » مَا مَنَعَهُ إِلاَّ الكِبْرُ . قَالَ: فما رفَعها إِلَى فِيهِ. رواه مسلم

২/৬১৮। সালামাহ ইবনি আকওয়া রাঃআঃ হইতে বর্ণিত এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এর নিকট তার বাম হাত দ্বারা খেল। তিনি বলিলেন, ‘‘তোমার ডান হাত দ্বারা খাও।’’ সে বলিল, ‘আমি অপারগ।’ তিনি সাঃআঃ বলিলেন, ‘‘তুমি [যেন ডান হাতে খেতে] না পারো।’’ রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এর কথা মানতে তাকে অহংকারই বাধা দিয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন, ‘[তারপর] থেকে সে তার ডান হাত মুখ পর্যন্ত উঠাতে পারেনি।’ [মুসলিম] [2]

3/619 وَعَن حَارِثَةَ بنِ وهْبٍ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ:«أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِأهْلِ النَّارِ ؟ كُلُّ عُتُلٍّ جَوّاظٍ مُسْتَكْبِرٍ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

৩/৬১৯। হারেসাহ ইবনি অহাব রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃকে বলিতে শুনেছি, ‘‘আমি তোমাদেরকে জাহান্নামীদের সম্পর্কে অবহিত করব না কি? [তারা হল] প্রত্যেক রূঢ় স্বভাব, কঠিন হৃদয় দাম্ভিক ব্যক্তি।’’ [বুখারী, মুসলিম] [3]

4/620 وَعَن أَبي سَعِيدٍ الخُدرِي رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ، قَالَ: «احْتَجَّتِ الجَنَّةُ وَالنَّارُ، فَقَالَت النَّارُ: فِيَّ الْجَبَّارُونَ والمُتَكَبِّرُونَ . وَقَالَتِ الجَنَّةُ: فيَّ ضُعَفَاءُ النَّاسِ وَمَسَاكِينُهُم، فَقَضَى اللهُ بَينَهُمَا: إِنَّكِ الجَنَّّةُ رَحْمَتِي أرْحَمُ بِكِ مَنْ أشَاءُ، وَإنَّكِ النَّارُ عَذَابِي أُعَذِّبُ بِكِ مَنْ أشَاءُ، وَلِكِلَيْكُمَا عَلَيَّ مِلْؤُهَا». رواه مسلم

৪/৬২০। আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘জান্নাত এবং জাহান্নাম পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া করল। জাহান্নাম বলিল, ‘আমার মধ্যে বড় বড় উদ্ধত এবং অহংকারীরা বসবাস করিবে।’ আর জান্নাত বলিল, ‘আমার মধ্যে দুর্বল এবং মিসকীনরা বসবাস করিবে।’ অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাহাদের মধ্যে মীমাংসা করিলেন যে, ‘হে জান্নাত! তুমি আমার অনুগ্রহ, আমি তোমার দ্বারা যার প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ করব। এবং হে জাহান্নাম! তুমি আমার শাস্তি, আমি তোমার দ্বারা যাকে ইচ্ছা তাকে শাস্তি দেব। আর তোমাদের দুটোকেই পরিপূর্ণ করা আমার দায়িত্ব।’’ [মুসলিম] [4]

5/621 وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ، قَالَ: «لاَ يَنْظُرُ اللهُ يَوْمَ القِيَامَةِ إِلَى مَنْ جَرَّ إزَارَهُ بَطَراً ». متفقٌ عَلَيْهِ

৫/৬২১। আবূ হুরাইরা রাঃআঃ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তির দিকে [রহমতের দৃষ্টিতে] তাকিয়ে দেখবেন না, যে অহংকারের সাথে তার লুঙ্গি [প্যাণ্ট্, পায়জামা মাটিতে] ছেঁচড়াবে।’’ [বুখারী ও মুসলিম] [5]

6/622 وَعَنهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: « ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ القِيَامَة، وَلاَ يُزَكِّيهِمْ، وَلاَ يَنْظُرُ إلَيْهِمْ، وَلَهُمْ عَذَابٌ ألِيمٌ: شَيْخٌ زَانٍ، وَمَلِكٌ كَذَّابٌ، وَعَائِلٌ مُسْتَكْبِرٌ ». رواه مسلم

৬/৬২২। উক্ত রাবী থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তিন প্রকার লোকের সাথে কথা বলবেন না, তাহাদেরকে পবিত্র করিবেন না এবং তাহাদের দিকে [অনুগ্রহের দৃষ্টিতে] তাকাবেন না এবং তাহাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি, [১] ব্যভিচারী বৃদ্ধ, [২] মিথ্যাবাদী বাদশাহ এবং [৩] অহংকারী গরীব।’’ [মুসলিম] [6]

7/623 وَعَنهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «قَالَ الله – عَزَّ وَجَلَّ -: العِزُّ إِزَارِي، وَالكِبرِيَاءُ رِدَائِي، فَمَنْ يُنَازِعُنِي فِي وَاحِدٍ مِنهُمَا فَقَد عَذَّبْتُهُ ». رواه مسلم

৭/৬২৩। সাবেক রাবী থেকেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘সম্মান আমার লুঙ্গি এবং গর্ব আমার চাদর। [অর্থাৎ খাস আমার গুণ।] সুতরাং যে ব্যক্তি আমার কাছ থেকে এর মধ্য থেকে যে কোন একটি টেনে নিতে চাইবে, আমি তাকে শাস্তি দেব।’’ [মুসলিম] [7]

8/624 وَعَنهُ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ، قَالَ: «بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمشِي فِي حُلَّةٍ تُعْجِبُهُ نَفْسُهُ، مُرَجِّلٌ رَأسَهُ، يَخْتَالُ فِي مَشْيَتهِ، إِذْ خَسَفَ اللهُ بِهِ، فَهُوَ يَتَجَلْجَلُ في الأَرضِ إِلَى يَوْمِ القِيَامَةِ ». متفقٌ عَلَيْهِ

৮/৬২৪। উক্ত রাবী থেকেই বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘একদা [পূর্ববর্তী উম্মতের] এক ব্যক্তি একজোড়া পোশাক পরে, গর্বভরে, মাথা আঁচড়ে অহংকারের সাথে চলা-ফেরা করছিল। ইত্যবসরে আল্লাহ তার [পায়ের নীচের মাটিকে] ধসিয়ে দিলেন। সুতরাং সে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত মাটির গভীরে নেমে যেতেই থাকবে।’’ [বুখারী-মুসলিম] [8]

9/625 وَعَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ   رضي الله عنهقَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ: «لَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَذْهَبُ بِنفْسِهِ حَتّىٰ يُكْتَبَ فِي الجَبَّارِيْنَ، فَيُصِيْبُهُ مَا أَصَابَهُمْ » رواهُ الترمذي وقال: حديث حسن .

৯/৬২৫ সালামাহ্ ইবনুল আক্ওয়া’ রাঃআঃ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি অহংকারবশত নিজকে বড় মনে করে লোকজনকে উপেক্ষা করে চলতে থাকে। পরিশেষে অহংকারী ও উদ্ধতদের মধ্যে তার নাম লিখা হয়, তারপর সে অহংকারী ও উদ্ধত লোকদের বিপদে পতিত হয়। [তিরমিযি]। হাদীসটি যঈফ। সিলসিলাহ যয়ীফাহ ১৯১৪নং]


[1] মুসলিম ৯১, তিরমিযী ১৯৯৮, ১৯৯৯, আবূ দাউদ ৪০৯১, ইবনু মাজাহ ৫৯, ৪১৭৩, আহমাদ ৩৭৭৯, ৩৯০৩, ৩৯৩৭, ৪২৯৮

[2] মুসলিম ২০২১, আহমাদ ১৬০৫৮, ১৬০৬৪, ১৬০৯৫, দারেমী ২০৩২

[3] সহীহুল বুখারী ৪৯১৮, ৬০৭২, ৬৬৫৭, মুসলিম ২৮৫৩, তিরমিযী ২৬০৫, ইবনু মাজাহ ৪১১৬, আহমাদ ১৮২৫৩

[4] সহীহুল বুখারী ৪৮৪৯, ৪৮৫০, ৭৪৪৯, মুসলিম ২৮৪৭, ২৮৪৬, তিরমিযী ২৫৫৭, ২৫৬১, আহমাদ ৭৬৬১, ২৭৩৮১, ২৮২২৪, ১০২১০

[5] সহীহুল বুখারী ৫৭৮৮, মুসলিম ২০৮৭, আহমাদ ৮৭৭৮, ৮৯১০, ৯০৫০, ৯২৭০, ৯৫৪৫, ২৭২৫৩, ৯৮৫১, ১০১৬৩, মুওয়াত্তা মালিক ১৬৯৮

[6] মুসলিম ১০৭, আহমাদ ৭৩৯৩, ৯৩১১, ৯৮৬৬

[7] মুসলিম ২৬২০, আবূ দাউদ ৪০৯০, ইবনু মাজাহ ৪১৭৪, আহমাদ ৭৩৩৫, ৮৬৭৭, ৯০৯৫, ৯২২৪, ৯৪১০

[8] সহীহুল বুখারী ৫৭৮৯, মুসলিম ২০৮৮, আহমাদ ৭৫৭৪, ২৭৩৯৪, ৮৮২২, ৯০৮২, ৯৫৭৬, ১০০১০, ১০০৭৭, ১০৪৮৮, দারেমী ৪৩৭

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply