অসিয়তের বিধান। দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদাণ

অসিয়তের বিধান। দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদাণ

 অসিয়তের বিধান। দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদাণ >> বুলুগুল মারাম এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-২১ঃ অসিয়তের বিধান

পরিচ্ছেদ ০১. ওয়াসিয়্যাত দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদাণ
পরিচ্ছেদ ০২. কতটুকু পরিমান ওয়াসিয়্যাত করা হইবে – এর বর্ণনা
পরিচ্ছেদ ০৩. মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদাকাহ দান করা মুস্তাহাব
পরিচ্ছেদ ০৪. ওয়ারিছের জন্য ওয়াসিয়্যাত করার বিধান
পরিচ্ছেদ ০৫. ওয়াসিয়্যাতের বিধানের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহের বর্ণনা

পরিচ্ছেদ ০১. ওয়াসিয়্যাত দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদাণ

৯৫৮ – ইবনু `উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, কোন মুসলিম ব্যক্তির এটা উচিত নয় যে, কোন ব্যাপারে কোন ওয়াসিয়্যাত করিতে ইচ্ছা করার পর লিখিত আকারে কাছে না রেখে দু`দিন অতিবহিত করে । {১০৩৪}

{১০৩৪} বুখারি ২৭৩৮, মুসলিম ১৬২৭, তিরমিজি ৯৭৪, ২১১৮, নাসায়ী ৩৬১৫, ৩৬১৮, আবূ দাউদ ২৮৬২, ইবনু মাযাহ ২৬৯৯, আহমাদ ৪৪৫৫, ৪৫৬৩, মুয়াত্তা মালেক ১৪৯২ । হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০২. কতটুকু পরিমান ওয়াসিয়্যাত করা হইবে – এর বর্ণনা

৯৫৯ – সাদ বিন আবূ অক্কাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি সম্পদশালী। আর একমাত্র কন্যা ছাড়া কেউ আমার উত্তরাধিকারী নেই । তবে আমি কি আমার সম্পদের দু`তৃতীয়াংশ সদাকাহ করিতে পারি? তিনি বলিলেন, না । আমি আবার নিবেদন করলাম, তাহলে অর্ধেক । তিনি বলিলেন, না । অতঃপর তিনি বলিলেন, এক তৃতীয়াংশ আর এক তৃতীয়াংশও বিরাট পরিমাণ অথবা অধিক । তোমার ওয়ারিসদের অভাবমুক্ত রেখে যাওয়া, তাদিরকে খালি হাতে পরমুখাপেক্ষী অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম । {১০৩৫}

{১০৩৫} বুখারি ৫৬, ১২৯৫, ২৮৪২, ২৭৪৪, ৩৯৩৬, ৪৪০৯, মুসলিম ১৬২৮, তিরমিজি ২১১৬, নাসায়ী ৩৬২৬, ৩৬২৭, আবূ দাউদ ২৮৬৫, আহমাদ ১৪৪৩, ১৪৭৭, মুয়াত্তা মালেক ১৪৯৫, দারেমী ৩১৯৬ । বুখারি এবং মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে । সা`দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিত । তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জে একটি কঠিন রোগে আমি আক্রান্ত হলে, আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] আমার খোঁজ খবর নেয়ার জন্য আসতেন । একদা আমি তাহাঁর কাছে নিবেদন করলাম, আমার রোগ চরমে পৌঁছেছে আর আমি সম্পদশালী । আতঃপর উপরোক্ত হাদীসের মতই বর্ণিত হয়েছে । তারপর আরো রয়েছে, আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তুমি যে কোন ব্যয় করো না কেন, তোমাকে তার বিনিময় প্রদান করা হইবে । এমনকি যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দিবে [তারও প্রতিদান পাবে] । আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! [আফসোস] আমি আমার সাথীদের হইতে পিছনে থেকে যাব? তিনি বলিলেন, তুমি যদি পিছনে থেকে নেক `আমল করিতে থাক, তাহলে তাতে তোমার মর্যাদা ও উন্নতি বৃদ্ধিই পেতে থাকিবে । তাছাড়া, সম্ভবত তুমি পিছনে [থেকে যাবে] । যার ফলে তোমার দ্বারা অনেক কাওম উপকার লাভ করিবে । আর অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হইবে । হে আল্লাহ্! আমার সাহাবীগণের হিজরত বলবৎ রাখুন । পশ্চাতে ফিরিয়ে দিবেন না । কিন্তু আফসোস! সা`দ ইবনু খাওলার জন্য [এ বলে] আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] তাহাঁর জন্য শোক প্রকাশ করছিলেন, যেহেতু মাক্কাহ্‌`য় তাহাঁর মৃত্যু হয়েছিল । হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৩. মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদাকাহ দান করা মুস্তাহাব

৯৬০ – আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ]-এর নিকটে এসে বলিল, হে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]! আমার মায়ের আকস্মিক মৃত্যু ঘটে, কিন্তু আমার বিশ্বাস তিনি [মৃত্যুর পূর্বে] কথা বলিতে সক্ষম হলে কিছু সদাকাহ করে যেতেন । এখন আমি তাহাঁর পক্ষ হইতে সদাকাহ করলে তিনি এর প্রতিফল পাবেন কি? তিনি {নবী[সাঃআঃ]} বলিলেন, হ্যাঁ । শব্দ বিন্যাস মুসলিমের । {১০৩৬}

{১০৩৬} বুখারির এক বর্ণনায় রয়েছে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, তুমি তাহাঁর পক্ষ থেকে সাদাকাহ কর । বুখারি ১৩২৮, ২৭৬০, মুসলিম ১০০৪, নাসায়ী ৩৬৪৯, আবূ দাউদ ২৮৮১, ইবনু মাযাহ ২৭১৭, আহমাদ ২৩৭৩০, মুয়াত্তা মালেক ১৪৯০ ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৪. ওয়ারিছের জন্য ওয়াসিয়্যাত করার বিধান

৯৬১ – আবূ উমামাহ বাহিলী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনিয়াছি যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা`আলা প্রত্যেক প্রাপকের প্রাপ্য অংশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন । অতএব কোন ওয়ারিসের অনুকূলে ওসিয়াত করা যাবে না । -আহমাদ ও তিরমিজি একে হাসান বলেছেন এবং ইবনু খুযাইমাহ ও ইবনু জারূদ এক শক্তিশালী বলে মন্তব্য করিয়াছেন । {১০৩৭}

{১০৩৭} আবূ দাউদ ৩৫৬৫, তিরমিজি ৬৭০, ইবনু মাযাহ ২২৯৫, ২৩৯৮, আহমাদ ২১৭৯১ । হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৬২ – দারাকুতনী ইবনু `আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তার শেষে তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করিয়াছেন যে, `তবে যদি উত্তরাধিকারীহণ ইচ্ছা করে` । এর সানাদ হাসান । {১০৩৮}

{১০৩৮} ইমাম সুয়ূত্বী আল জামেউস সগীর ৯৭৫১, শাইখ আলবানী তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩০১০ ও যঈফুল জামে ৬১৯৮ গ্রন্থত্রয়ে এক দুর্বল বলেছেন । তবে শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ১৬৫৬ গ্রন্থে একে মুনকার বলেছেন । হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৫. ওয়াসিয়্যাতের বিধানের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহের বর্ণনা

৯৬৩ – মু`আয বিন জাবাল [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] বলেছেন, আল্লাহ্ তোমাদের সওয়াবকে বৃদ্ধি করার সুযোগ দেবার জন্যে তোমাদের মালের তৃতীয়াংশ তোমাদের মৃত্যুর সময় তোমাদেরকে দান করিয়াছেন । {১০৩৯}

{১০৩৯} ইবনু হাজার আসকালানী হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন । ইমাম সনআনী তাহাঁর সুবুলুস সালাম [৩/১৬৮] গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ইসমাঈল বিন আইয়াশ ও তার উসতায উতরা বিন হুমাইদ উভয়ে দুর্বল । ইবনুল মুলকিন তাহাঁর আল বাদরুল মুনীর [৭/২৫৪] গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আল কাসিম বিন আবদুর রহমান রয়েছেন যে কিনা দুর্বল । এর মধ্যে আরও রয়েছে ইসমাঈল বিন আইয়াশ তিনিও দুর্বল, [তার উসতায] উতবা বিন হুমাইদকে ইমাম আহমাদ দুর্বল বলেছেন। একই হাদূস সামান্য পরিবির্তিত শব্দে আবূ হুরাইরাহ [রাঃআঃ] ও আবুদ দারদা ও আবূ উমামা আল বাহিলী হইতে বর্ণিত হয়েছে, যেগুলোর অবস্থা একই । [নাইলুল আওতার [৬/১৪৯], সাইলুল জাররার [৪/৪৭৩], আত তালীকাতে রযীয়্যাহ [৩/৪১১]। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৯৬৪ – বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ

ইমাম আহমাদ ও বাযযার হাদিসটিকে আবূ দারদা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন । {১০৪০}

{১০৪০} বাযযার ১৩৮২, আহমাদ ২৬৯৩৬ । হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৯৬৫ – আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

এর সকল সূত্র দুর্বল কিন্তু এক সূত্র অন্য সূত্র [সানাদ] দ্বারা শক্তিশালী হচ্ছে । [আল্লাহ্ সবচেয়ে ভাল জানেন] । {১০৪১}

{১০৪১} ইবনু মাযাহ ২৭০৯। শাহিদ হাদিসের ভিত্তিতে হাসান লিগাইরিহি, তাওযিহুল আহকাম ৫/১৯৯ পৃঃ- হাদিসের তাহকিকঃ হাসান লিগাইরিহি

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply