অসিয়ত । অসিয়তের আগে ঋণ পরিশোধ করিতে হইবে

অসিয়ত । অসিয়তের আগে ঋণ পরিশোধ করিতে হইবে

অসিয়ত । অসিয়তের আগে ঋণ পরিশোধ করিতে হইবে , এই অধ্যায়ে মোট =২৪ টি হাদীস (২৬৯৫ – ২৭১৮)>> সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ২২-অসিয়ত, অধ্যায়ঃ (১-৯)=৯টি, হাদীস (২৬৯৫ – ২৭১৮)

১৬/১. অধ্যায়ঃ রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি অসিয়ত করেছিলেন?
১৬/২. অধ্যায়ঃ অসিয়ত করিতে উৎসাহিত করা
১৬/৩. অধ্যায়ঃ ওসিয়াতের মধ্যে জুলুম করা
১৬/৪. অধ্যায়ঃ জীবিতকালে কৃপণতা এবং মরণকালে অযাচিত অপব্যয় নিষিদ্ধ
১৬/৫. অধ্যায়ঃ এক-তৃতীয়াংশ সম্পদে অসিয়ত করা
১৬/৬. অধ্যায়ঃ ওয়ারিসের অনুকূলে অসিয়ত করা যাবে না
১৬/৭. অধ্যায়ঃ অসিয়ত করার আগে ঋণ পরিশোধ করিতে হইবে
১৬/৮. অধ্যায়ঃ কেউ অসিয়ত না করে মারা করে গেলে, তাহার পক্ষ থেকে দান-খয়রাত করা যাবে কি?
১৬/৯. অধ্যায়ঃ আল্লাহর বানী ঃ যে বিত্তহীন, সে যেন ন্যায়সঙ্গতভাবে ভোগ করে

১৬/১. অধ্যায়ঃ রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি অসিয়ত করেছিলেন?

২৬৯৫ আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দীনার-দিরহাম [নগদ অর্থ] বা উট-ছাগল কিছুই রেখে যাননি এবং তিনি কোন কিছুর অসিয়তও করেননি। {২৬৯৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৬৯৫} মুসলিম ১৬৩৫, নাসাঈ ৩৬২১, ৩৬২২, ৩৬২৩, আবু দাউদ ২৮৬৩, আহমাদ ২৪৫৩, ২৪৯৯২, ২৫০১১, সহীহ আবু দাউদ ২৫৪৯, মুখতাসারুশ শামাইল ৩৪২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৬৯৬ তালহাহ বিন মুসাররিফ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি আবদুল্লাহ বিন আবু আওফা [রাদি.] কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি অসিয়ত করেছিলেন? তিনি বলেন, না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে তিনি মুসলমানদের কিভাবে ওসিয়াতের নির্দেশ দিলেন? তিনি বলেন, তিনি আল্লাহর কিতাব অনুসারে অসিয়ত করিয়াছেন। হুযাইল বিন শরাহবীল বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর অসিয়তকৃত ব্যক্তির [ওসী] উপর কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা আবু বাকর [রাদি.]-এর ছিল না। আবু বাকর [রাদি.]-র অবস্থা এই ছিল যে, তিনি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নির্দেশ পেলে অনুগত উটের ন্যায় নিজের নাকে লাগাম পরিয়ে দিতেন। {২৬৯৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৬৯৬} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৭৪০, ৪৪৬০, ৫০২২, মুসলিম ১৬৩৪, তিরমিজি ২১১৯, নাসাঈ ৩৬২০, আহমাদ ১৮৬৪৪, ১৮৬৫৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৬৯৭ আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর অন্তিম মুহূর্তে তাহাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাহার অসিয়ত এই ছিল যে,

 الصَّلاَةَ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ

“নামায পড়বে এবং তোমাদের দাস-দাসীর সাথে সদ্ব্যবহার করিবে”। {২৬৯৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৬৯৭} আহমাদ ১১৭৫৯, ইরওয়া ২১৭৮, ফিকহুস সিরাহ ৫০১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৬৯৮ আলী বিন আবু তালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর শেষ কথা ছিলঃ

الصَّلاَةَ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ

“নামায পড়বে এবং তোমাদের দাস-দাসীর সাথে সদাচার করিবে”। {২৬৯৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৬৯৮} আবু দাউদ ৫১৫৬, আহমাদ ৫০৮৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনি মাঈন তাহাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা]হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৬/২. অধ্যায়ঃ অসিয়ত করিতে উৎসাহিত করা

২৬৯৯ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন মুসলমানের নিকট অসিয়ত করার মত জিনিস থাকলে তাহার অসিয়তনামা তাহার নিকট লিপিবদ্ধ আকারে না রেখে দুটি রাতও অতিবাহিত করা তাহার জন্য বৈধ নয়। {২৬৯৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৬৯৯} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৭৩৮, মুসলিম ১৬২৭, তিরমিজি ৯৭৪, ২১১৮, নাসাঈ ৩৬১৫, ৩৬১৬, ৩৬১৮, ৩৬১৯, আবু দাউদ ২৮৬২, আহমাদ ৪৪৫৫, ৪৫৬৪, ৫০৯৭, ৪৮৮৪, ৫১৭৫, ৫৪৮৭, ৫৮৯৪, ৬০৬৫, মুয়াত্তা মালিক ১৪৯২, দারেমী ৩১৭৫, সহীহ আবু দাউদ ২৫৪৮, ইরওয়া ১৬৫২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭০০ আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ বঞ্চিত সেই ব্যক্তি যে অসিয়ত করা থেকে বঞ্চিত থাকে। {২৭০০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দঈফ।{২৭০০} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। আত-তালীকুর রাগীব ৪/১৬৬, জইফ আল-জামি ৫৯১৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. দুরুসত বিন যিয়াদ সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, আমি আশা করি তাহার মাঝে কোন সমস্যা নেই। আবুল হাসায়ন বলেন, তিনি সিকাহ। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৭৯৮, ৮/৮৪০ নং পৃষ্ঠা] ২. ইয়াযীদ আর-রাকশী সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে অভিযুক্ত। আবু বকার আল-বুরকানী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দলীলযোগ্য নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তাহার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৯৫৮, ৩২/৬৪ নং পৃষ্ঠা]. হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৭০১ জাবির বিন আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অসিয়ত করে মারা গেলো সে সঠিক পথে ও সুন্নাতের উপরই মারা গেলো, তাকওয়া ও শহীদী দরজা পেয়ে মারা গেলো এবং গুনাহ মাফ পেয়ে মারা গেলো। {২৭০১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দঈফ।{২৭০১} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। মিশকাত ৩০৭৬, জইফ আল-জামি ৫৮৪৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি মুহাম্মাদ ইবনিল মুসাফফা আল-হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ঈমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনি হিব্বান তাহাকে সিকাহ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও তাদলীস করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১৩, ২৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা] ২. ইয়াযীদ বিন আওফ সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি মাজহুল অপরিচিত। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৩৪, ৩২/২২১ নং পৃষ্ঠা]।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৭০২ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেন, কোন মুসলমানের নিকট অসিয়তযোগ্য জিনিস থাকা সত্ত্বেও তাহার ওয়াসিয়াতনামা তাহার কাছে লিখিত আকারে না রেখে দুটি রাতও অতিবাহিত করার অধিকার তাহার নাই। {২৭০২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭০২} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। বায়হাকী ফিস সুনান ৯/১৮, ইবনি হিব্বান ৬০২৪, দারাকুতনী ৪/১৫০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৬/৩. অধ্যায়ঃ ওসিয়াতের মধ্যে জুলুম করা

২৭০৩ আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি তাহার ওয়ারিসকে মীরাস দেয়া থেকে পশ্চাদপসরণ করে, কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাহাকে জান্নাতের অংশীদার হওয়া থেকে বঞ্চিত করবেন। {২৭০৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দঈফ।{২৭০৩} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। বায়হাকী ফিস সুনান ৬/২৬৪, মিশকাত ৩০৭৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুর রহীম যায়দ আল-আম্মী সম্পর্কে আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী তাহার হাদিস বর্জন করিয়াছেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। ঈমাম যাহাবী তাহাকে বর্জন করিয়াছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪০৬, ১৮/৩৪ নং পৃষ্ঠা] ২. যায়দ আল-আম্মী সম্পর্কে আবুল ফারাজ ইবনিল জাওযী তাহার মাওদুআত গ্রন্থে তাহাকে উল্লেখ করিয়াছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য হইবে না, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু নুমায়র আল-আসবাহানী বলেন, তাহার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২১০২, ১০/৫৬ নং পৃষ্ঠা] হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৭০৪ আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, কোন ব্যক্তি একাধারে সত্তর বছর যাবত উত্তম কাজ করিল, অতঃপর ওসিয়াতের মাধ্যমে যুলুম করিল, ফলে খারাপ কাজের দ্বারা তাহার জীবনের সমাপ্তি হলো, সে জাহান্নামে যাবে। আবার কোন লোক একাধারে সত্তর বছর ধরে খারাপ কাজ করিল, অতঃপর ওসিয়াতের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত কাজ করিল, ফলে ভালো কাজের দ্বারা তাহার জীবনের সমাপ্তি হলো, সে জান্নাতে যাবে।

আবু হুরাইরা [রাদি.] বলেন, তোমরা ইচ্ছা করিলে [কুরআনের এ আয়াত] পড়তে পারো [ অনুবা-দ. ] ঃ “এসব আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। কেউ আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের আনুগত্য করিলে আল্লাহ তাহাকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে। এটা এক মহাসাফল্য। আর কেউ আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের অবাধ্য হলে এবং তাহাঁর নির্ধারিত সীমা লংঘন করিলে তিনি তাহাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। সেখানে সে স্থায়ী হইবে, তাহার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি”। [সূরা নিসাঃ ১৩-১৪]। {২৭০৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দঈফ।২৭০৪} আবু দাউদ ২৮৬৭, জইফ আবু দাউদ ৪৯৫, মিশকাত ৩০৭৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি শাহর বিন হাওশাব সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান এবং আল-আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। শুবাহ ইবনিল হাজ্জাজ তাহাকে বর্জন করিয়াছেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, কোন সমস্যা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৭৮১, ১২/৫৭৮ নং পৃষ্ঠা]হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৭০৫ কুররাহ বিন ইয়াস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কেউ অন্তিমকালে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী অসিয়ত করিলে, সে তাহার জীবনে যে যাকাত দেয়নি এটা তাহার কাফফারাস্বরূপ। {২৭০৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দঈফ।২৭০৫} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। বায়হাকী ফিস সুনান ৬/২১২, যইফাহ ৪০৩৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি আবু হালবাস সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। আল-মিযযী বলেন, তিনি জাহিলদের একজন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭৩২৬, ৩৩/২৫৮ নং পৃষ্ঠা] ২. খুলায়দ বিন আবু খুলায়দ সম্পর্কে আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৭১৬, ৮/৩০৭ নং পৃষ্ঠা]।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৬/৪. অধ্যায়ঃ জীবিতকালে কৃপণতা এবং মরণকালে অযাচিত অপব্যয় নিষিদ্ধ

২৭০৬ আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাকে অবহিত করুন যে, লোকের মধ্যে কে আমার উত্তম সাহচর্যের অধিক দাবিদার। তিনি বলেনঃ হাঁ, তোমার পিতাহার শপথ! তোমাকে অবশ্যই অবহিত করা হইবে, তোমার মা। সে বলল, তাহারপর কে? তিনি বলেনঃ তাহারপর তোমার মা। সে বলল, তাহারপর কে? তিনি বলেনঃ তাহারপর তোমার মা। সে বলল, তাহারপর কে? তিনি বলেনঃ তাহারপর তোমার পিতা। লোকটি বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাকে অবহিত করুন যে, আমার মাল থেকে আমি কিভাবে দান-খয়রাত করিব? তিনি বলেনঃ হাঁ, আল্লাহর শপথ! তোমাকে অবশ্যই বলা হইবে। তুমি সুস্থ অবস্থায়, সম্পদের প্রতি তোমার আকর্ষণ থাকতে, উত্তমরূপে জীবন যাপনের আশা রেখে এবং দারিদ্রের আশঙ্কা জাগ্রত রেখে দান-খয়রাত করো, কিন্তু বিলম্ব করো না। শেষে যখন তোমার জান এখানে [কন্ঠনালীতে] এসে পৌঁছবে তখন তুমি বলবে আমার এই মাল অমুকের জন্য, আমার এই মাল অমুকের জন্য। অথচ তখন তা তাহাদের [ওয়ারিসদের] জন্য হয়েই গেছে, যদিও তুমি তা অপছন্দ করো। {২৭০৬}

তাহকীক আলবানী ঃ সহীহ।{২৭০৬} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৯৭১, মুসলিম ২৫৪৮, আহমাদ ৮১৪৪, ৮৮৩৮, ৮৯৬৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭০৭ বুস্র বিন জাহ্হাশ আল-কুরাশী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] তাহাঁর হাতের তালুতে থুতু ফেলে তাহার অপর তাহাঁর হাতের শাহাদাত আঙ্গুল রেখে বলেন, মহামহিম আল্লাহ বলেন, আদম-সন্তান আমাকে কিভাবে অক্ষম করিবে, অথচ আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি এর অনুরূপ জিনিস থেকে। অতঃপর তোমার জান যখন এ পর্যন্ত পৌছবে, তিনি তাহাঁর কণ্ঠনালীর দিকে ইশারা করিলেন, তখন তুমি বলবে, আমি দান করিব। অথচ তখন দান-খয়রাত করার সুযোগ কোথায়? {২৭০৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান।{২৭০৭} আহমাদ ১৭৩৮৭, সহীহাহ ১০৯৯, ১১৪৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৬/৫. অধ্যায়ঃ এক-তৃতীয়াংশ সম্পদে অসিয়ত করা

২৭০৮ সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মক্কা বিজয়ের বছর আমি অসুস্থ হয়ে পরলাম, এমনকি আমি মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হলাম। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে দেখিতে এলে আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার প্রচুর মাল আছে। একটি মাত্র কন্যা ব্যতীত আমার কোন ওয়ারিস নেই। আমি কি আমার দুই-তৃতীয়াংশ সম্পদ দান-খয়রাত করিব? তিনি বলেনঃ না। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেনঃ না। আমি বললাম, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বলেনঃ এক-তৃতীয়াংশ করিতে পারো, তবে এক-তৃতীয়াংশও অধিক। তুমি তোমার ওয়ারিসদেরকে সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাবে, সেটা তাহাদেরকে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ানোর মত নিঃস্ব অবস্থায় রেখে যাওয়ার তুলনায় অধিক উত্তম। {২৭০৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। {২৭০৮} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১২৯৬, ২৭৪২, ২৭৪৪, ৩৯৩৬, ৪৪০৯, ৫৩৫৪, ৫৬৫৯, ৫৬৬৮, ৬৩৭৩, ৬৭৩৩, মুসলিম ১৬২৮, তিরমিজি ৯৭৫, ২১১৬, নাসাঈ ৩৬২৬, ৩৬২৭, ৩৬২৮, ৩৬৩০, ৩৬৩১, ৩৬৩২, ৩৬৩৫, আবু দাউদ ২৮৬৪, আহমাদ ১৪৪৩, ১৪৭৭, ১৪৮২, ১৪৯১, ১৫০৪, ১৫২৭, ১৫৪৯, ১৫৭১, ১৬০২, ১৪৯৫, দারেমী ৩১৯৫, ৩১৯৬, সহীহ আবু দাউদ ২৫৫০, ইরওয়া ৮৯৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭০৯ আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের মৃত্যুর সময়ও তোমাদের মাল থেকে আল্লাহ তাআলা এক-তৃতীয়াংশ অসিয়ত করার অধিকার প্রদান করে তোমাদের নেক আমলের পরিমাণ আরো বাড়ানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। {২৭০৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান।{২৭০৯} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। ইরওয়া ১৬৪১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি তালহাহ বিন আমর সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বাকর আল-বাযযাহার বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য ও হাফিয নয়। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৯৭৮, ১৩/৪২৭ নং পৃষ্ঠা]হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২৭১০ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আদম সন্তান! দুটি জিনিস তোমার পাওনা ছিলো না। তাহার একটি এই যে, তোমার মৃত্যুর সময় তোমার মাল থেকে একটি অংশ [দান-খয়রাতের জন্য] নির্দিষ্ট করে দিয়াছি, যাতে তুমি [গুনাহ থেকে] পাকসাফ হইতে পারো। আর অপরটি হলো তোমার মৃত্যুর পর তোমার জন্য আমার বান্দাদের দোয়া। {২৭১০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দঈফ।{২৭১০} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। বায়হাকী ফিস সুনান ৬/২০৯, দারাকুতনী ৪/৬৭, যইফাহ ৪০৪২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি মুবারাক বিন হাসসান সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। তাহার মিথ্যা বলার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৭৬২, ২৭/১৭৩ নং পৃষ্ঠা]হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৭১১ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি আশা করি যে, লোকেরা [তাহাদের ওসিয়াতের পরিমাণ] এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশে কমিয়ে আনুক। কেননা, রাসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ এক-তৃতীয়াংশও বেশী বা পর্যাপ্ত হয়ে যায়। {২৭১১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭১১} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৭৪৩, মুসলিম ১৬২৯, নাসাঈ ৩৬৩৪, আহমাদ ২০৩৫, ২০৭৭, ইরওয়া ১৬৪৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৬/৬. অধ্যায়ঃ ওয়ারিসের অনুকূলে অসিয়ত করা যাবে না

২৭১২ আমর বিন খারিজাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর জন্ত্তযানে আরোহিত অবস্থায় তাহাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। জন্ত্তটি তখন জাবর কাটছিল এবং মুখের লালা আমার উভয় কাঁধের মাঝখান দিয়ে পড়ছিল। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলা [মৃতের] পরিত্যক্ত মালে প্রত্যেক ওয়ারিসের অংশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। তাই কোন ওয়ারিসের অনুকূলে অসিয়ত করা জায়েয নয়। সন্তান যাহার অধীন সন্তানের মালিকানা তাহার, যেনাকারীর জন্য রয়েছে পাথর। যে ব্যক্তি তাহার পিতাহাকে বাদ দিয়ে অন্যের সন্তান বলে পরিচয় দেয় অথবা নিজের মনিবকে ত্যাগ করে অপরকে মনিব বলে পরিচয় দেয়, তাহার উপর আল্লাহ, তাহাঁর ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তাহার নফল বা ফরয কোন ইবাদাতই কবুল করা হইবেনা। {২৭১২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭১২} তিরমিজি ২১২১, নাসাঈ ৩৬৪১, ৩৬৪২, ৩৬৪৩, আহমাদ ১৭২১০, ১৭৬১৫, ১৭৬২১, দারেমী ৩৫২৯, ৩২৬০, ইরওয়া ৬/৮৮-৮৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি শাহর বিন হাওশাব সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান এবং আল-আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। শুবাহ ইবনিল হাজ্জাজ তাহাকে বর্জন করিয়াছেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, কোন সমস্যা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৭৮১, ১২/৫৭৮ নং পৃষ্ঠা]।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭১৩।আবু উমামা আল-বাহিলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বিদায় হজ্জের দিন তাহাঁর খুতবায় বলিতে শুনেছিঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক প্রাপকের প্রাপ্য অংশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। অতএব কোন ওয়ারিসের অনুকূলে অসিয়ত করা যাবে না। {২৭১৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭১৩} তিরমিজি ২১২০, ইরওয়া ১৬৫৫, মিশকাত ৩০৭৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনিল মাদানী, ইবনি আবু শায়বাহ, আমর ইবনিল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭২, ৩/১৬৩ নং পৃষ্ঠা] ২. শুরাহবিল বিন মুসলিম আল-খাওলানী সম্পর্কে আবু মুহাম্মাদ আল-ফাতায়ানী ও ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন নুমায়র বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তিনি সিকাহ। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৭২১, ১২/৪৩০ নং পৃষ্ঠা]।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭১৪।আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর উষ্ট্রীর নিচে ছিলাম এবং এর মুখের লালা আমার গায়ে পড়ছিল। এমতাবস্থায় আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক প্রাপকের প্রাপ্য অংশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। সাবধান! ওয়ারিসের অনুকূলে অসিয়ত করা যাবেনা। {২৭১৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭১৪} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। ইরওয়া ৬/৮৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৬/৭. অধ্যায়ঃ অসিয়ত করার আগে ঋণ পরিশোধ করিতে হইবে

২৭১৫ আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ওসিয়াতের পূর্বে ঋণ পরিশোধের ফয়সালা দিয়েছেন। তোমরা এ আয়াত পাঠ করে থাকো

مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ 

[অনুবাদ] ঃ “যা অসিয়ত করা হয় তা দেয়ার এবং ঋণ পরিশোধ করার পর” [সুরা নিসাঃ ১২]। সহোদর ভাই ওয়ারিস হইবে, বৈমাত্রেয় ভাই ওয়ারিস হইবেনা। {২৭১৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান।{২৭১৫} তিরমিজি ২০৯৪, ২০৯৫, আহমাদ ১২২৬, দারেমী ২৯৮৩, ইরওয়া ১৬৬৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি হারিস [বিন আবদুল্লাহ] সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আহমাদ বিন সালিহ আল-মিসরী বলেন, তিনি সিকাহ। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনিল মাদানী তাহাকে মিথ্যুক বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তাহার হাদিস গ্রহনযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহীহ। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১০২৪, ৫/২৩৯ নং পৃষ্ঠা]।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৬/৮. অধ্যায়ঃ কেউ অসিয়ত না করে মারা করে গেলে, তাহার পক্ষ থেকে দান-খয়রাত করা যাবে কি?

২৭১৬।আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে জিজ্ঞেস করিল, আমার পিতা ধন-সম্পদ রেখে মারা গেছেন কিন্ত অসিয়ত করে যাননি। আমি যদি তাহার পক্ষ থেকে দান-খয়রাত করি তবে কি তা তাহার কাফ্ফারা হইবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। {২৭১৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭১৬} মুসলিম ১৬৩০, আল-আহকাম ১৭২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আবু মারওয়ান মুহাম্মাদ বিন উসমান আল-উসমানী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন ও সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ঈমাম বুখারী তাহাকে সত্যবাদী বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪৫৪, ২৬/৮১ নং পৃষ্ঠা] ২. আলা বিন আব্দুর রহমান সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সিকাহ তাহার খারাফি সম্পর্কে কারো থেকে কিছু শুনিনি। ঈমাম তিরমিজি বলেন, হাদিস বিশারদদের নিকট তিনি সিকাহ। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনি আদী বলেন, আমি কোন সমস্যা দেখি না। ইবনি হিব্বান তাহাকে সিকাহ বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৫৭৭, ২২/৫২০ নং পৃষ্ঠা]।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭১৭ আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বলল, আমার মায়ের আকস্মিক মৃত্যু হইয়াছে, তিনি অসিয়ত করে যেতে পারেননি। তাহার সম্পর্কে আমার ধারনা এই যে, তিনি কথা বলিতে পারলে অবশ্যই দান-খয়রাত করিতেন। আমি যদি তাহার পক্ষ থেকে দান-খয়রাত করি, তবে তিনি ও আমি কি সওয়াবের অধিকারী হবো? তিনি বলেনঃ হাঁ। {২৭১৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। {২৭১৭} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৩৮৮, ২৭৬০, মুসলিম ১০০৪, নাসাঈ ৩৬৪৯, আবু দাউদ ২৮৭১, আহমাদ ২৩৭৩০, মুয়াত্তা মালিক ১৪৯০, বায়হাকী ফিস সুনান ৬/২৫৫, আল-হাকিম ফিল মুসতদারাক ২/৩০৪, আল-আহকাম ১৭২, সহীহ আবু দাউদ ২৫৬৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৬/৯. অধ্যায়ঃ আল্লাহর বানী ঃ যে বিত্তহীন, সে যেন ন্যায়সঙ্গতভাবে ভোগ করে

২৭১৮ আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বলল, আমি কিছুই যোগাড় করিতে পারছি না এবং আমার ধন-সম্পদও নেই। তবে আমার অধীন এক সম্পদশালী ইয়াতীম আছে। তিনি বলেনঃ তুমি তোমার ইয়াতীমের মাল থেকে ভোগ করো অপচয় না করে এবং নিজের জন্য সঞ্চয় না করে। রাবী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এও বলেছেনঃ তাহার মালকে তোমার মাল খরচ না করার উপায় বানিও না। {২৭১৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান সহীহ।{২৭১৮} আবু দাউদ ২৮৭২, সহীহ আবু দাউদ ২৫৫৬, ইরওয়া ১৪৫৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান সহীহ।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

By ইমাম ইবনে মাজাহ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply