অশুভ লক্ষণ, যাদু, গনক, নাশরাহ ও জ্যোতির্বিদ্যা

অশুভ লক্ষণ, যাদু, গনক, নাশরাহ ও জ্যোতির্বিদ্যা

অশুভ লক্ষণ, যাদু, গনক, নাশরাহ ও জ্যোতির্বিদ্যা

২৪ তম অধ্যায় ঃ যাদু
২৫ তম অধ্যায় ঃ যাদু এবং যাদুর শ্রেণীভূক্ত বিষয়
২৬তম অধ্যায় ঃ গনক
২৭ তম অধ্যায়ঃ নাশরাহ বা প্রতিরোধমূলক যাদু
২৮ তম অধ্যায়ঃ কুলক্ষণ সম্পর্কীয় বিবরণ
২৯ তম অধ্যায়ঃ জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কীয় শরিয়তের বিধান
৩০ তম অধ্যায় ঃ নক্ষত্রের ওসীলায় বৃষ্টি কামনা করা
৩১ তম অধ্যায়ঃ অধ্যায়
৩২ তম অধ্যায়ঃ আল্লাহর ভয়

২৪ তম অধ্যায় ঃ যাদু

১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন,
“তারা অবশ্যই অবগত আছে, যে ব্যক্তি তা {যাদু} ক্রয় করে নিয়েছে, পরকালে তার কোন সুফল পাওনা নেই।” [বাকারাদি. ১০২]
২। আল্লাহ তাআলা আরো এরশাদ করিয়াছেন,
তারা ‘জিবত’ এবং ‘তাগুত’ কে বিশ্বাস করে। [নিসাঃ ৫১]
ওমর রাদি. বলিয়াছেন, ‘জিবত’ হচ্ছে যাদু, আর ‘তাগুত’ হচ্ছে শয়তান।
জাবির রাদি. বলিয়াছেন, ‘তাগুত’ হচ্ছে গণক। তাদের উপর শয়তান অবতীর্ণ হতো প্রত্যেক গোত্রের জন্যই একজন করে গণক নির্ধারিত ছিল।
৩। আবু হুরায়রা রাদি. হইতে বর্ণিত আছে, রসুল সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন,
“তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক জিনিস থেকে বেঁচে থাকো। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসুলাল্লাহ ঐ ধবংসাত্মক জিনিসগুলো কি? তিনি জবাবে বললেন,
১। আল্লাহর সাথে শিরক করা। ২। যাদু করা। ৩। অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা যা আল্লাহ তাআলা হারাম করে দিয়াছেন। ৪। সুদ খাওয়া। ৫। এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা। ৬। যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা। ৭। সতী সাধ্বী মোমিন মহিলাকে অপবাদ দেয়া।
৪। যুনদুব রাদি. থেকে ‘মারফু’ হাদীসে বর্ণিত আছে,
“যাদু করের শাস্তি হচ্ছে তলোয়ারের আঘাতে গর্দান উড়িয়ে দেয়া” {মৃত্যু দন্ড}। [তিরমিজি]
৫। সহীহ বুখারীতে বাজালা বিন আবাদাহ হইতে বর্ণিত আছে, ওমর রাদি. মুসলিম গভর্ণরদের কাছে পাঠানো নির্দেশনামায় লিখেছেন,
“তোমরা প্রত্যেক যাদুকর পুরুষ এবং যাদুকর নারীকে হত্যা করো।”
বাজালা বলেন, এ নির্দেশের পর আমরা তিনজন যাদুকরকে হত্যা করেছি।
৬। হাফসা রাদি. হইতে বর্ণিত সহীহ হাদীসে আছে, তিনি তাঁহার অধীনস্ত একজন বান্দী [ক্রীতদাসী] কে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যে দাসী তাঁহাকে যাদু করেছিলো। অতঃপর উক্ত নির্দেশে তাকে হত্যা করা হয়েছে। একই রকম হাদীস জুনদাব থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আহমাদ রহ. বলিয়াছেন, নবি সাঃআঃ এর তিনজন সাহাবি থেকে একথা সহীহ ভাবে বর্ণিত হয়েছে।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় ঃ
১। সুরা বাকারার ১০২ নং আয়াতের তাফসির।
২। সুরা নিসার ৫১ নং আয়াতের তাফসির।
৩। ‘জিবত’ এবং ‘তাগুত’ এর ব্যাখ্যা এবং উভয়ের মধ্যে পার্থক্য।
৪। ‘তাগুত’ কখনো জিন আবার কখনো মানুষ হতে পারে।
৫। ধ্বংসাত্মক সাতটি এমন বিশেষ বিষয়ের জ্ঞান যে ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
৬। যাদুকরকে কাফের ঘোষণা দিতে হবে।
৭। তাওবার সুযোগ ছাড়াই যাদুকরকে হত্যা করতে হবে।
যদি ওমর রাদি. এর যুগে যাদু বিদ্যার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলে তাঁহার পরবর্তী যুগের অবস্থা কি দাঁড়াবে? {অর্থাৎ তাঁহার পরবর্তী যুগে যাদু বিদ্যার প্রচলন অবশ্যই আছে।}

২৫ তম অধ্যায় ঃ যাদু এবং যাদুর শ্রেণীভূক্ত বিষয়

১। কুতুন বিন কুবাইসা তাঁহার পিতা থেকে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি নবি সাঃআঃ কে এ কথা বলতে শুনেছেন,
“নিশ্চয়ই ‘ইয়াফা’, ‘তারক’ এবং ‘তিয়ারাহ’ হচ্ছে ‘জিবত’ এর অন্তর্ভূক্ত।
আউফ বলিয়াছেন, ‘ইয়াফা’ হচ্ছে পাখি উড়িয়ে ভাগ্য গণনা করা। ‘তারক’ হচ্ছে মাটিতে রেখা টেনে ভাগ্য গণনা করা। হাসান বলিয়াছেন, ‘জিবত’ হচ্ছে শয়তানের মন্ত্র। এ বর্ণনার সনদ সহীহ [আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনু হিব্বান]
২। ইবনে আব্বাস রাদি. হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলিয়াছেন, রসুল সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন,
“যে ব্যক্তি জ্যোতির্বিদ্যার কিছু অংশ শিখলো সে মূলতঃ যাদুবিদ্যারই কিছু অংশ শিখলো। এ {জ্যোতির্বিদ্যা} যত বাড়বে যাদু বিদ্যাও তত বাড়বে।” [আবু দাউদ]
৩। হযরত আবু হুরায়রা [রাদি.] থেকে একটি হাদীসে বর্ণিত আছে
“যে ব্যক্তি গিরা লাগায় অতঃপর তাতে ফুঁক দেয় সে মূলতঃ যাদু করে। আর যে ব্যক্তি যাদু করে সে মূলতঃ শিরক করে আর যে ব্যক্তি কোন জিনিস {তাবিজ-কবজ} লটকায় তাকে ঐ জিনিেিসর দিকেই সোপর্দ করা হয়। [নাসায়ী]
৪। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, রসুল সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন,
“আমি কি তোমাদেরকে যাদু কি-এ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তা হচ্ছে চোগোলখুরী বা কুৎসা রটনা করা অর্থাৎ মানুষের মধ্যে কথা-লাগানো বা বদনাম ছড়ানো।” [মুসলিম]
যাদুর শ্রেণীভূক্ত আরেকটি বিষয় অনেক মানুষের মধ্যেই পাওয়া যায়, তা হচ্ছে চোগলখুরী বা কুৎসা রটনা করা। মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি, প্রিয়জনদের অন্তরে শক্রতা সৃষ্টি।
৫। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, রসুল সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন, إن من البيان لسحرا
নিশ্চয় কোন কোন কথার মধ্যে যাদু আছে। [বুখারি ও মুসলিম]
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়ঃ
১। ‘ইয়াফা’, ‘তারক’ এবং ‘তিয়ারাহ’ জিবতের অন্তর্ভূক্ত।
২। ‘ইয়াফা’, ‘তারক’, এবং ‘তিয়ারাহ’ এর তাফসির।
৩। জ্যোতির্বিদ্যা যাদুর অন্তর্ভুক্ত।
৪। ফুঁক সহ গিরা লাগানো যাদুর অন্তর্ভুক্ত।
৫। কুৎসা রটনা করা যাদুর শামিল।
৬। কিছু কিছু বাগ্মীতাও যাদুর অন্তর্ভূক্ত ।

২৬তম অধ্যায় ঃ গনক

১। রসুল সাঃআঃ এর এক স্ত্রী হইতে বর্ণিত আছে, রসুল সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন,
“যে ব্যক্তি কোন গণকের কাছে আসল, তারপর তাকে {ভাগ্য সম্পর্কে} কিছু জিজ্ঞাসা করলো, অতঃপর গণকের কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করল, তাহলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামাজ কবুল হবে না। [মুসলিম]
২। আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, রসুল সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন,
“যে ব্যাক্তি গণকের কাছে আসলো, অতঃপর গণক যা বললো তা সত্য বলে বিশ্বাস করলো, সে মূলতঃ মুহাম্মদ সাঃআঃ এর উপর যা নাযিল করা হইয়াছেতা অস্বীকার করলো। [সহীহ বুখারি ও মুসলিমের শর্ত মোতাবেক হাদীসটি সহীহ। আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ী ইবনে মাজা ও হাকিম এ হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন]।
আবু ইয়ালা ইবনে মাসউদ থেকে অনুরূপ মাউকুফ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।
৩। ইমরান বিন হুসাইন থেকে মারফু’ হাদীসে বর্ণিত আছে,
“যে ব্যক্তি পাখি উড়িয়ে ভাগ্যের ভাল-মন্দ যাচাই করলো, অথবা যার ভাগ্যের ভাল-মন্দ যাচাই করার জন্য পাখি উড়ানো হল, অথবা যে ব্যক্তি ভাগ্য গণনা করলো, অথবা যার ভাগ্য গণনা করা হলো, অথবা যে ব্যক্তি যাদু করলো অথবা যার জন্য যাদু করা হলো অথবা যে ব্যক্তি কোন গণকের কাছে আসলো অতঃপর সে {গণক} যা বললো তা বিশ্বাস করলো সে ব্যক্তি মূলতঃ মুহাম্মদ সাঃআঃ এর উপর যা নাযিল করা হইয়াছেতা {কুরআন} অস্বীকার করল। [বায্যার]
{ইমাম তাবারানীও এ হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। তবে ومن أتى থেকে হাদিসের শেষ পর্যন্ত ইমাম তাবারানী কর্তৃক বর্ণিত ইবনে আব্বাসের হাদীসে উল্লেখ নেই।
ইমাম বাগাবী [রহ:] বলেন عراف {গণক} ঐ ব্যক্তিকে বলা হয় যে ব্যক্তি চুরি যাওয়া জিনিস এবং কোন জিনিস হারিয়ে যাওয়ার স্থান ইত্যাদি বিষয় অবগত আছে বলে দাবী করে। এক বর্ণনায় আছে যে, এ ধরনের লোককেই গণক বলা হয়। মূলতঃ গণক বলা হয় এমন ব্যক্তিকে যে ভবিষ্যতের গায়েবী বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেয় {অর্থাৎ যে ভবিষ্যদ্বানী করে}। আবার কারো মতে যে ব্যক্তি ভবিষ্যতের গোপন খবর বলে দেয়ার দাবী করে তাকেই গণক বলা হয়।
কারো মতে যে ব্যক্তি দিলের [গোপন] খবর দেয়ার দাবী করে, সেই গণক।
আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া [রহ:] বলিয়াছেন كاهن {গণক}, منجم {জ্যোতির্বিদ}, এবং رمال {বালির উপর রেখা টেনে ভাগ্য গণনাকারী} এবং এ জাতীয় পদ্ধতিতে যারাই গায়েব সম্পর্কে কিছু জানার দাবী করে তাদেরকেই আররাফ {عراف} বলে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস [রাদি.] বলিয়াছেন, এক কওমের কিছু লোক আরবী أباجاد লিখে নক্ষত্রের দিকে দৃষ্টি দেয় এবং তা দ্বারা ভাগ্যের ভাল-মন্দ যাচাই করে। পরকালে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে কোন ভাল ফল আছে বলে আমি মনে করি না।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় ঃ
১। গণনাকারীকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং কুরআনের প্রতি ঈমান রাখা, এ দুটি বিষয় একই ব্যক্তির অন্তরে এক সাথে অবস্থান করতে পারে না।
২। ভাগ্য গণনা করা কুফরী হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা।
৩। যার জন্য গণনা করা হয়, তার উল্লেখ।
৪। পাখি উড়িয়ে ভাগ্য পরীক্ষাকারীর উল্লেখ।
৫। যার জন্য যাদু করা হয়, তার উল্লেখ।
৬। ভাগ্য গণনা করার ব্যাপারে যে ব্যক্তি “আবাজাদ” শিক্ষা করেছে তার উল্লেখ্য।
৭। ‘কাহেন, {كاهن} এবং ‘আররাফ’ {عراف} এ মধ্যে পার্থক্য।

২৭ তম অধ্যায়ঃ নাশরাহ বা প্রতিরোধমূলক যাদু

১। সাহাবি জাবের [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, রসুল সাঃআঃকে নাশরাহ বা প্রতিরোধমূলক যাদু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো। জবাবে তিনি বললেন,
“এটা হচ্ছে শয়তানের কাজ” [আহমাদ, আবু দাউদ]
আবু দাউদ বলেন, ইমাম আহমাদ [রহ:]-কে নাশরাহ {প্রতিরোধমূলক যাদু} সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো। জবাবে তিনি বলিয়াছেন, “ইবনে মাসউদ [রাদি.] এর {নাশরাহর} সব কিছুই অপছন্দ করতেন।”
সহীহ বুখারীতে কাতাদাহ [রাদি.] হ’তে বর্ণিত আছে, আমি ইবনুল মুসাইয়্যিবকে বললাম, “একজন মানুষের অসুখ হইয়াছেঅথবা তাকে তার স্ত্রীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে, এমতাবস্থায় তার এ সমস্যার সমধান করা কিংবা প্রতিরোধমূলক যাদু {নাশরাহ} এর মাধ্যমে চিকিৎসা করা যাবে কি? তিনি বললেন, ‘এতে কোন দোষ নেই।’ কারণ তারা এর {নাশরাহ} দ্বারা সংশোধন ও কল্যাণ সাধন করতে চায়। যা দ্বারা মানুষের কল্যাণ ও উপকার সাধিত হয় তা নিষিদ্ধ নয়।”
হাসান [রাদি.] থেকে বর্নিত আছে তিনি বলেন,
لا يحل السحر إلا الساحر “একমাত্র যাদুকর ছাড়া অন্য কেউ যাদুকে হালাল মনে করে না।”
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, النشرة حل السحر عن المسحور
‘নাশারাহ’ হচ্ছে যাদুকৃত ব্যক্তি বা বস্তুর উপর থেকে যাদুর প্রভাব দূর করা।
নাশরাহ দু’ধরনের :
প্রথমটি হচ্ছে, যাদুকৃত ব্যক্তি বা বস্তুর উপর হতে যাদুর ক্রিয়া নষ্ট করার জন্য অনুরূপ যাদু দ্বারা চিকিৎসা করা। আর এটাই হচ্ছে শয়তানের কাজ। হাসান বসরী [রহ:] এর বক্তব্য দ্বারা এ কথাই বুঝানো হয়েছে। এক্ষেত্রে নাশের {যাদুর চিকিৎসক} ও মুনতাশার {যাদুকৃত রোগী} উভয়ই শয়তানের পছন্দনীয় কাজের মাধ্যমে শয়তানের নিকটবর্তী হয়। যার ফলে শয়তান যাদুকৃত রোগীর উপর থেকে তার প্রভাব মিটিয়ে দেয়।
দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ঝাড়-ফুঁক, বিভিন্ন ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ,ঔষধ-পত্র প্রয়োগ ও শরীয়ত সম্মত দোয়া ইত্যাদির মাধ্যমে চিকিৎসা করা এ ধরনের চিকিৎসা জায়েয।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়ঃ
১। নাশরাহ [প্রতিরোধমূলক যাদু] এর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ।
২। নিষিদ্ধ বস্তু ও অনুমতি প্রাপ্ত বস্তুর মধ্যে পার্থক্য করণ, যাতে সন্দেহ মুক্ত হওয়া যায়।

২৮ তম অধ্যায়ঃ অশুভ লক্ষণ সম্পর্কীয় বিবরণ

১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন,
“মনে রেখো, আল্লাহর কাছেই রয়েছে তাদের অশুভ লক্ষণসমূহের চাবিকাঠি। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই তা বুঝে না। [আরাফ: ১৩১]
২। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন .
“তারা বললো, তোমাদের দুর্ভাগ্য তোমাদের সাথেই রয়েছে।” [ইয়াসিন : ১৯]
৩। আবু হুরায়রা [রাদি.] থেকে বর্নিত আছে, রসুল সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন,
لا عدوى ولا طيرة، ولا هامة ولا صفر، [أخرحاه]
“দ্বীন ইসলামে সংক্রামক ব্যাধি, অশুভ লক্ষণ বা দুর্ভাগ্য, কথার অশুভ লক্ষণ বলতে কিছুই নেই।” [বুখারি ও মুসলিম]
{মুসলিমের হাদীসে ‘নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টিপাত, রাক্ষস বা দৈত্য বলতে কিছুই নেই’ এ কথাটুকু অতিরিক্ত আছে}
বুখারি ও মুসলিমে আনাস [রাদি.] থেকে আরো বর্ণিত আছে, রসুল সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন,
“ইসলামে সংক্রামক ব্যাধি আর অশুভ লক্ষণ বলতে কিছুই নেই। তবে ‘ফাল’ আমাকে অবাক করে {অর্থাৎ আমার কাছে ভাল লাগে।} সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘ফাল’ কি জিনিস? জবাবে তিনি বললেন, ‘উত্তম কথা’। {যে কথা শিরকমুক্ত}
৫। উকবা বিন আমের [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, অশুভ লক্ষণ বা দূর্ভাগ্যের বিষয়টি রসুল রসুল সাঃআঃ এর দরবারে উল্লেখ করা হলো। জবাবে তিনি বললেন,
এগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে ‘ফাল’। অশুভ লক্ষণ কোন মুসলমানকে স্বীয় কর্তব্য পালনে বাধাগ্রস্ত করতে পারে না। তোমাদের কেউ যদি অপছন্দনীয় কোন কিছু প্রত্যক্ষ করে তখন সে যেন বলে,
“হে আল্লাহ তুমি ছাড়া কেউ কল্যাণ দিতে পারে না। তুমি ছাড়া কেউ অকল্যাণ ও দূরাবস্থা দূর করতে পারে না। ক্ষমতা ও শক্তির আধার একমাত্র তুমিই।” [আবু দাউদ]
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ [রাদি.] থেকে ‘মারফু’ হাদীসে বর্ণিত আছে, পাখি উড়িয়ে ভাগ্য গণনা করা শেরেকী কাজ, পাখি উড়িয়ে লক্ষণ নির্ধারণ করা শেরেকী কাজ, একাজ আমাদের নয়। আল্লাহ তাআলা তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে মুসলিমের দুশ্চিন্তাকে দূর করে দেন। [আবু দাউদ, তিরমিজী]
৭। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, ‘অশুভ লক্ষণ বা দুর্ভাগ্যের ধারণা যে ব্যক্তিকে তার স্বীয় প্রয়োজন, দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে দূরে রাখলো, সে মূলতঃ শিরক করলো। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, এর কাফ্ফারা কি? উত্তরে তিনি বললেন, তোমরা এ দোয়া পড়বে,
“হে আল্লাহ, তোমার মঙ্গল ব্যতীত কোন মঙ্গল নেই। তোমার অকল্যাণ ছাড়া কোন অকল্যাণ নেই। আর তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। [আহমদ]
৮। ফজল বিন আব্বাস হইতে বর্ণিত আছে طيرة {তিয়ারাহ} অর্থাৎ অশুভ লক্ষণ হচ্ছে এমন জিনিস যা তোমাকে কোন অন্যায় কাজের দিকে ধাবিত করে অথবা কোন ন্যায় কাজ থেকে তোমাকে বিরত রাখে।” [আহমাদ]
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় ঃ
১। ألا إنما طائرهم عند الله {জেনে রেখো তাদের দুর্ভাগ্য আল্লাহর কাছে নিহিত} এবং طائركم معكم {তোমাদের দুর্ভাগ্য তোমাদের সাথেই রয়েছে} এ আয়াত দু’টির ব্যাপারে সতর্কীকরণ।
২। সংক্রামক রোগের অস্বীকৃতি।
৩। কুলক্ষণের অস্বীকৃতি।
৪। দুর্ভাগ্যের ব্যাপারে অস্বীকৃতি {অর্থাৎ দুর্ভাগ্য বলতে ইসলামে কোন কিছু নেই}
৫। অশুভ লক্ষণ ‘সফর’ এর অস্বীকৃতি জ্ঞাপন {অর্থাৎ কুলক্ষণে ‘সফর মাস’ বলতে কিছুই নেই। জাহেলী যুগে সফর মাসকে কুলক্ষুণ মনে করা হতো, ইসলাম এ ধারণাকে বাতিল ঘোষণা করেছে।}
৬। ‘ফাল’ উপরোক্ত নিষিদ্ধ বা অপছন্দনীয় জিনিসের অন্তর্ভূক্ত নয়। বরং এটা মোস্তাহাব।
৭। ‘ফাল’ এর ব্যাখ্যা।

২৯ তম অধ্যায়ঃ জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কীয় শরিয়তের বিধান

ইমাম বুখারি [রহ:] তাঁহার সহীহ গ্রন্থে বলিয়াছেন, কাতাদাহ [রাদি.] বলিয়াছেন, “আল্লাহ তাআলা এসব নক্ষত্ররাজিকে তিনটি উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিয়াছেন, আকাশের সৌন্দর্যের জন্য, আঘাতের মাধ্যমে শয়তান বিতাড়নের জন্য এবং {দিক ভ্রান্ত পথিকদের} নিদর্শন হিসেবে পথের দিশা পাওয়ার জন্য। যে ব্যক্তি এ উদ্দেশ্য ছাড়া এর ভিন্ন ব্যাখ্যা দিবে সে ভুল করবে এবং তার ভাগ্য নষ্ট করবে। আর এমন জটিল কাজ তার ঘাড়ে নিবে যে সম্পর্কে তার কোন জ্ঞানই থাকবে না।”
কাতাদাহ [রাদি.] চাঁদের কক্ষ সংক্রান্ত বিদ্যার্জন অর্থাৎ জ্যোতির্বিদ্যা অপছন্দ করতেন। আর উ’য়াইনা এ বিদ্যার্জনের অনুমতি দেননি। উভয়ের কাছ থেকে হারব [রহ:] একথা বর্ণনা করিয়াছেন।
ইমাম আহমদ এবং ইসহাক [রহ:] {চাদের} কক্ষপথ জানার অনুমতি দিয়াছেন।
আবু মূসা আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, ‘রসুল সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন,
তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না,
১। মাদকাসক্ত ব্যক্তি ২। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী এবং ৩। যাদুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী। [আহমাদ, ইবনু হিব্বান]
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়ঃ
১। নক্ষত্র সৃষ্টির রহস্য।
২। নক্ষত্র সৃষ্টির ভিন্ন উদ্দেশ্য বর্ণনাকারীর সমুচিত জবাব প্রদান।
৩। কক্ষ সংক্রান্ত বিদ্যার্জনের ব্যাপারে মতভেদের উল্লেখ।
৪। যাদু বাতিল জানা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি যাদুর অন্তর্ভুক্ত সামান্য জিনিসেও বিশ্বাস করবে, তার প্রতি কঠোর হুশিয়ারী।

৩০ তম অধ্যায় ঃ নক্ষত্রের ওসীলায় বৃষ্টি কামনা করা

১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন,
“তোমরা {নক্ষত্রের মধ্যে তোমাদের} রিজিক নিহত আছে মনে করে আল্লাহর নেয়ামতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছো।” [ওয়াকেয়া . ৮২]
২। আবু মালেক আশআ’রী [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, রসুল সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন,
‘জাহেলী যুগের চারটি কুস্বভাব আমার উম্মতের মধ্যে বিদ্যমান থাকবে, যা তারা পুরোপুরি পরিত্যাগ করতে পারবেনা। এক : আভিজাত্যের অহংকার করা। দুই : বংশের বদনাম গাওয়া। তিন : নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি কামনা করা এবং চার : মৃত ব্যাক্তির জন্য বিলাপ করা।
তিনি আরো বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ কারিনী তার মৃত্যুর পূর্বে যদি তাওবা না করে, তবে কেয়ামতের দিন তেল চিট-চিটে জামা আর মরিচা ধরা বর্ম পরিধান করে উঠবে।’ [মুসলিম]
৩। ইমাম বুখারি ও মুসলিম যায়েদ বিন খালেদ [রাদি.] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন, ‘তিনি বলিয়াছেন, রসুল সাঃআঃ হুদাইবিয়াতে আমাদেরকে নিয়ে ফজরের নামাজ পড়লেন। সে রাতে আকাশটা মেঘাচ্ছন্ন ছিলো।’ নামাজান্তে রসুল সাঃআঃ লোকদের দিকে ফিরে বললেন,
“তোমরা কি জানো তোমাদের প্রভু কি বলিয়াছেন? লোকেরা বললো, ‘আল্লাহ ও তাঁহার রসুলই ভাল জানেন।’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহ বলিয়াছেন, আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আমার প্রতি ঈমানদার হিসেবে আবার কেউ কাফের হিসেবে সকাল অতিবাহিত করলো। যে ব্যক্তি বলেছে, ‘আল্লাহর ফজল ও রহমতে বৃষ্টি হয়েছে, সে আমার প্রতি ঈমান এনেছে আর নক্ষত্রকে অস্বীকার করেছে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি বলেছে, ‘অমুক অমুক নক্ষত্রের ‘ওসীলায়’ বৃষ্টিপাত হয়েছে, সে আমাকে অস্বীকার করেছে আর নক্ষত্রের প্রতি ঈমান এনেছে।”
ইমাম বুখারি ও মুসলিম আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস [রাদি.] হতে এ অর্থেই হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তাতে এ কথা আছে যে, কেউ কেউ বলিয়াছেন, ‘অমুক অমুক নক্ষত্র সত্য প্রমাণিত হয়েছে।’ তখন আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন,
“আমি নক্ষত্র রাজির {অস্তমিত হওয়ার} স্থানসমূহের কসম করে বলছি, …. তোমরা মিথ্যাচারিতায় মগ্ন রয়েছো।” [ওয়াকিয়া : ৭৫-৮২]
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় ঃ
১। সুরা ওয়াকেয়ার উল্লেখিত আয়াতের তাফসির।
২। জাহেলী যুগের চারটি স্বভাবের উল্লেখ।
৩। উল্লেখিত স্বভাবগুলোর কোন কোনটির কুফরী হওয়া উল্লেখ।
৪। এমন কিছু কুফরী আছে যা মুসলিম মিল্লাত থেকে একে বারে নিঃশ্চি‎হ্ন হবে না।
৫। ‘বান্দাদের মধ্যে কেউ আমার প্রতি বিশ্বাসী আবার কেউ অবিশ্বাসী হয়েছে’ এ বাণীর উপলক্ষ হচ্ছে আল্লাহ তাআলার নেয়ামত {বৃষ্টি} নাযিল হওয়া।
৬। এ ব্যাপারে ঈমানের জন্য মেধা ও বিচক্ষণতা প্রয়োজন।
৭। এ ক্ষেত্রে কুফরী থেকে বাঁচার জন্য বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার প্রয়োজন।
৮। لقد صدق نوء كذا وكذا {অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাব সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে} এর মর্মার্থ বুঝতে হলে জ্ঞান-বুদ্ধি প্রয়োজন।
৯। তোমরা জানো কি ‘তোমাদের রব কি বলিয়াছেন?’ এ কথা দ্বারা এটা প্রমাণিত হয় যে, কোন বিষয় শিক্ষাদানের জন্য শিক্ষক ছাত্রকে প্রশ্ন করতে পারেন।
১০। মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপকারিণীর জন্য কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ।

৩১ তম অধ্যায় ঃ

১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন,
“মানুষের মধ্যে এমন মানুষও রয়েছে যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে সদৃশ স্থির করে, আল্লাহকে ভালবাসার ন্যায় তাদেরকে ভালবাসে।”। [বাকারা : ১৬৫]
২। আল্লাহ তাআলা আরো এরশাদ করিয়াছেন,
“হে রসুল, আপনি বলে দিন, ‘যদি তোমাদের মাতা-পিতা, সন্তান-সন্ততি, ভাই-বোন, তোমাদের স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ঐ ব্যবসা যার লোকসান হওয়াকে তোমরা অপছন্দ করো, তোমাদের পছন্দনীয় বাড়ী-ঘর, তোমাদের নিকট আল্লাহ, তাঁহার রসুল এবং তাঁহারই পথে জিহাদ করার চেয়ে বেশী প্রিয় হয়, তাহলে তোমরা আল্লাহর চূড়ান্ত ফায়সালা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো।” [তাওবা : ২৪]
৩। সাহাবি আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, রসুল সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন,
“তোমাদের মথ্যে ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।” [বুখারি ও মুসলিম]
৪। আনাস [রাদি.] থেকে আরো বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রসুল সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন,
“যার মধ্যে তিনটি জিনিস বিদ্যমান আছে সে ব্যক্তি এগুলো দ্বারা
ঈমানের স্বাদ অনুভব করতে পেরেছে। এক : তার কাছে আল্লাহ ও তাঁহার রসুল সর্বাধিক প্রিয় হওয়া। দুই : একমাত্র আল্লাহ তাআলার {সন্তুষ্টি লাভের} জন্য কোন ব্যক্তিকে ভালবাসা। তিন : আল্লাহ তাআলা তাকে কুফরী থেকে উদ্ধার করার পর পূনরায় কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করা তার কাছে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতই অপছন্দনীয় হওয়া।
অন্য একটি বর্ণনায় আছে لا يجد أحد حلاوة الإيمان حتى
অর্থাৎ কেউ ঈমানের স্বাদ পাবে না যতক্ষণ না …. [হাদিসের শেষ পর্যন্ত।}
৬। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালবাসে, আল্লাহর উদ্দেশ্যেই ঘৃণা করে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব স্থাপন করে, আল্লাহর জন্যই শত্র“তা পোষণ করে; সে ব্যক্তি এ বৈশিষ্ট্যের দ্বারা নিশ্চয়ই আল্লাহর বন্ধুত্ব লাভ করবে। আর এ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়া ব্যতীত নামায রোজার পরিমাণ যত বেশীই হোক না কেন, কোন বান্দাই ঈমানের স্বাদ অনুভব করতে পারবে না।
সাধারণতঃ মানুষের মধ্যে পরস্পারিক ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে পার্থিব স্বার্থ। এ জাতীয় ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের দ্বারা কোন উপকার সাধিত হয় না। [ইবনে জারীর]
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস [রাদি.] বলেন وتقطعت بهم الأسباب
অর্থাৎ তাদের সম্পর্ক বিছিন্ন হয়ে যাবে। এ সম্পর্ক হচ্ছে বন্ধুত্ব ও ভালবাসার সম্পর্ক।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় ঃ
১। সুরা বাকারার ১৬ নং আয়াতের তাফসির।
২। সুরা তাওবার ২৪ নং আয়াতের তাফসির।
৩। রসুল সাঃআঃ এর প্রতি ভালবাসাকে জীবন, পরিবার ও ধন-সম্পদের উপর অগ্রাধিকার দেয়া ওয়াজিব।
৪। কোন কোন বিষয় এমন আছে যা ঈমানের পরিপন্থী হলেও এর দ্বারা ইসলামের গন্ডি থেকে বের হয়ে যাওয়া বুঝায় না। {এমতাবস্থায় তাকে অপূর্ণাঙ্গ মোমিন বলা যেতে পারে}।
৫। ঈমানের একটা স্বাদ আছে। মানুষ কখনো এ স্বাদ অনুভব করতেও পারে, আবার কখনো অনুভব নাও করতে পারে।
৬। অন্তরের এমন চারটি আমল আছে যা ছাড়া আল্লাহর বন্ধুত্ব ও নৈকট্য লাভ করা যায় না, ঈমানের স্বাদ ও অনুভব করা যায় না।
৭। একজন প্রখ্যাত সাহাবি দুনিয়ার এ বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব সাধারণত গড়ে উঠে পার্থিব বিষয়ের ভিত্তিতে।
৮। وتقطعت بهم الأسباب এর তাফসির।
৯। মুশরিকদের মধ্যেও এমন লোক রয়েছে যারা আল্লাহকে খুব ভালবাসে {কিন্তু শিরকের কারণে এ ভালবাসা অর্থহীন।}
১০। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করে এবং ঐ শরীককে আল্লাহকে ভালবাসার মতই ভালবাসে সে শিরকে আকবার অর্থাৎ বড় ধরনের শিরক করলো।

৩২ তম অধ্যায় ঃ আল্লাহর ভয়

১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন,
“এরা হলো শয়তান, যারা তোমাদেরকে তার বন্ধুদের [কাফের বেঈমান] দ্বারা ভয় দেখায়। তোমরা যদি প্রকৃত মোমেন হয়ে থাকো। তাহলে তাদেরকে {শয়তানের সহচারদেরকে} ভয় করো না বরং আমাকে ভয় করো।” [আল ইমরান . ১৭৫]
২। আল্লাহ তাআলা আরো এরশাদ করিয়াছেন,
“আল্লাহর মসজিদগুলোকে একমাত্র তারাই আবাদ করতে পারে যারা আল্লাহ এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, নামাজ কায়েম করে, যাকাত
আদায় করে এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকে ভয় করে না।” [তাওবা : ১৮]
৩। আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে এরশাদ করিয়াছেন,
“মানুষের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি। এরপর যখন আল্লাহর পথে তারা দুঃখ কষ্ট পায় তখন মানুষের চাপানো দুঃখ কষ্টের পরীক্ষাকে তারা আল্লাহর আযাবের সমতূল্য মনে করে।” [আনকাবূত : ১০]
৪। আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] থেকে ‘মারফু’ হাদীসে বর্ণিত আছে, ঈমানের দুর্বলতা হচ্ছে আল্লাহ তাআলাকে অসন্তুষ্ট করে মানুষকে সন্তুষ্ট করা, আল্লাহর রিযিক ভোগ করে মানুষের গুণগান করা, তোমাকে আল্লাহ যা দান করেননি তার ব্যাপারে মানুষের বদনাম করা। কোন লোভীর লোভ আল্লাহর রিযিক টেনে আনতে পারে না। আবার কোন ঘৃণা কারীর ঘৃণা আল্লাহর রিযিক বন্ধ করতে পারে না।
৫। আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, রসুল সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন,
“যে ব্যক্তি মানুষকে নারাজ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি চায়, তার উপর আল্লাহর সন্তুষ্ট থাকেন, আর মানুষকেও তার প্রতি সন্তুষ্ট করে দেন।
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহকে নারাজ করে মানুষের সন্তুষ্টি চায়, তার উপর আল্লাহও অসন্তুষ্ট হন এবং মানুষকেও তার প্রতি অসন্তুষ্ট করে দেন। [ইবনে হিব্বান]
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায় :
১। সুরা আল-ইমরানের ১৭৫ নং আয়াতের তাফসির।
২। সুরা তাওবার ১৮ নং আয়াতের তাফসির।
৩। সুরা আনকাবুতের ১০ নং আয়াতের তাফসির।
৪। ঈমান শক্তিশালী হওয়া আবার দূর্বল হওয়া সংক্রান্ত কথা।

Leave a Reply