অলঙ্কার ও পোশাক বিষয়ক হাদিস সমূহ

অলঙ্কার ও পোশাক বিষয়ক হাদিস সমূহ

অলঙ্কার ও পোশাক বিষয়ক হাদিস সমূহ , এই পর্বের হাদীস =৪৩ টি (১৩৩৭-১৩৭৯) >> আল লুলু ওয়াল মারজান এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্ব-৩৭ঃ পোষাক ও অলঙ্কার

৩৭/১. পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার ও তা থেকে পানি পান করা নিষিদ্ধ।
৩৭/৩. চুলকানি বা চর্মরোগের কারণে পুরুষের জন্য রেশমি কাপড় ব্যবহার বৈধ।
৩৭/৫. হিবরা কাপড় পরিধানের মর্যাদা।
৩৭/৬. পোষাকে বিনয়ী হওয়া শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক মোটা কাপড়কে যথেষ্ট মনে করা, কম মূল্যের পোষাক, কম্বল, বিছানা ব্যবহার করা, উটের লোম থেকে তৈরি কাপড় আর তাতে যা উপাদেয় পাওয়া যায় তা ব্যবহার করা বৈধ।
৩৭/৭. কার্পেট ব্যবহার করা বৈধ।
৩৭/৯. অহঙ্কার করে কাপড় ছেচড়ানো হারাম এবং কাপড় কতটুকু লটকানো জায়িয এবং এর মুস্তাহাব বিধান কী?
৩৭/১০. পোষাকের পারিপাট্যে অতি উৎফুল্ল হয়ে গর্বভরে চলার নিষিদ্ধতা।
৩৭/১১. স্বর্ণের আংটি ছুঁড়ে ফেলে দেয়া।
৩৭/১২. মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] রৌপ্যের আংটি পরিধান করেছিলেন যাতে খোদাই করা ছিল মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ। তার পরে তাহাঁর খালীফাগণ সেটা পরিধান করেছিলেন।
৩৭/১৩. নাবী [সাঃআঃ]-এর আংটি পরিধান করা, যখন তিনি অনারবদের নিকট পত্র লেখার ইচ্ছে করিলেন।
৩৭/১৪. আংটি ছুঁড়ে ফেলে দেয়া।
৩৭/১৯. যখন জুতা পরবে তখন ডান পা এবং যখন জুতা খুলবে তখন বাম পা দ্বারা আরম্ভ করিবে।
৩৭/২২. চিত হয়ে এক পা আরেক পা-র উপর রেখে শোয়া বৈধ।
৩৭/২৩. পুরুষের জন্য জাফরান রং ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
৩৭/২৫. রঙে ইয়াহূদীদের বিরোধিতা করা।
৩৭/২৬. যে ঘরে কুকুর ও ছবি আছে সে ঘরে মালাইকাহ প্রবেশ করে না।
৩৭/২৮. উটের গলায় ধনুকের রশির গোলাকার মাল্য পরানো মাকরূহ।
৩৭/৩০. পশুর গায়ে চিহ্ন লাগানো মুখ বাদ দিয়ে যাকাত ও জিযিয়ার পশুর চিহ্ন লাগানো উত্তম।
৩৭/৩১. মাথা মোড়ানোর পর এখানে ওখানে কিছু চুল ছেড়ে দেয়া মাকরূহ।
৩৭/৩২. রাস্তার উপর বসা নিষিদ্ধ এবং রাস্তার হক্ব আদায় করা।
৩৭/৩৩. পরচুলা লাগানোর কাজ করা বা নিজে লাগানো উলকির কাজ করা বা নিজে লাগানো, ভ্রু চিকন করা এবং আল্লাহ্‌র সৃষ্টির পরিবর্তন করা হারাম।
৩৭/৩৫. পোশাকে ধোঁকা বাজি করা এবং [স্বামী যে পোশাক] না দিয়েছে তার বড়াই করা নিষিদ্ধ।

৩৭/১. পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার ও তা থেকে পানি পান করা নিষিদ্ধ।

১৩৩৭. উম্মু সালামাহ [রাদি. হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রূপার পাত্রে পান করে সে তো তার উদরে জাহান্নামের আগুন প্রবেশ করায়।

[বোখারী পর্ব ৭৪ অধ্যায় ২৮ হাদীস নং ৫৬৩৪; মুসলিম ৩৭/১, হাঃ ২০৬৫] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৩৮. বারাআ ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের সাতটি জিনিসের হুকুম দিয়েছেন এবং সাতটি জিনিস থেকে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি আমাদের হুকুম দিয়েছেনঃ রোগীর সেবা করিতে, জানাযার পেছনে যেতে, হাঁচি দানকারীর জবাব দিতে, দাওয়াতকারীর দাওয়াত গ্রহণ করিতে, অধিক অধিক সালাম দিতে, মাযলুমের সাহায্য করিতে এবং কসমকারীকে কসম ঠিক রাখার সুযোগ করে দিতে। আর আমাদের তিনি নিষেধ করছেনঃ স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করিতে, কিংবা তিনি বলেছেন, রূপার পাত্রে পানি পান করিতে, মায়াসির অর্থাৎ এক জাতীয় নরম ও মসৃন রেশমী কাপড় কালসী অর্থাৎ রেশম মিশ্রিত কাপড় ব্যবহার করিতে এবং পাতলা কিংবা মোটা এবং অলঙ্কার খচিত রেশমী কাপড় ব্যবহার করিতে।

[বোখারী পর্ব ৭৪ অধ্যায় ২৮ হাদীস নং ৫৬৩৫; মুসলিম ৩৭/১, হাঃ ২০৬৬] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৩৯. আবদুর রহমান ইবনি আবু লাইলা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার তাঁরা হুযাইসলামিক ফাউন্ডেশনহ [রাদি.]-এর কাছে উপস্থিত ছিলেন। তিনি পানি পান করিতে চাইলে এক অগ্নি উপাসক তাঁকে পানি এনে দিল। সে যখনই পাত্রটি তাহাঁর হাতে রাখল, তিনি সেটা ছুঁড়ে মারলেন এবং বলিলেন, আমি যদি একবার বা দুবারের অধিক তাকে নিষেধ না করতাম, তাহলেও হতো। অর্থাৎ তিনি যেন বলিতে চান, তা হলেও আমি এরূপ করতাম না। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ তোমরা রেশম বা রেশম জাত কাপড় পরিধান করো না এবং সোনা ও রূপার পাত্রে পান করো না এবং এগুলোর বাসনে আহার করো না। কেননা পৃথিবীতে এগুলো কাফিরদের জন্য আর পরকালে তোমাদের জন্য।

[বোখারী পর্ব ৭০ অধ্যায় ২৯ হাদীস নং ৫৪২৬; মুসলিম ৩৭/১, হাঃ ২০৬৭] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৪০. আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] মাসজিদে নববীর দরজার নিকটে এক জোড়া রেশমী পোষাক [বিক্রি হইতে] দেখে নাবী [সাঃআঃ]-কে বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল  [সাঃআঃ]! যদি এটি আপনি খরিদ করিতেন আর জুমুআহর দিন এবং যখন আপনার নিকট প্রতিনিধি দল আসে তখন আপনি তা পরিধান করিতেন। তখন আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] বললেনঃ এটা তো সে ব্যক্তিই পরিধান করে, আখিরাতে যার [মঙ্গলের] কোন অংশ নেই।

অতঃপর আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ]-এর নিকট এ ধরনের কয়েক জোড়া পোষাক আসে, তখন তার এক জোড়া তিনি উমার [রাদি.]-কে প্রদান করেন। উমার [রাদি.] আরয করিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল  [সাঃআঃ]! আপনি আমাকে এটি পরিধান করিতে দিলেন অথচ আপনি উতারিদের [রেশম] পোষাক সম্পর্কে যা বলার তা তো বলেছিলেন। তখন আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] বললেনঃ আমি তোমাকে এটি নিজের পরিধানের জন্য প্রদান করিনি। উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] তখন এটি মাক্কায় তাহাঁর এক ভাইকে দিয়ে দেন, যে তখন মুশরিক ছিল।

[বোখারী পর্ব ১১ অধ্যায় ৭ হাদীস নং ৮৮৬; মুসলিম ৩৭/১, হাঃ ২০৬৮] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৪১. ক্বাতাদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু উসমান নাহদী [রাদি.]-এর থেকে বলেনঃ আমাদের কাছে উমার [রাদি.]-এর থেকে এক পত্র আসে, এ সময় আমরা উত্‌বাহ ইবনি ফারকাদের সঙ্গে আযারবাইজানে অবস্থান করছিলাম। [তাতে লেখা ছিল :] রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রেশম ব্যবহার করিতে নিষেধ করিয়াছেন, তবে এতটুকু এবং ইশারা করিলেন, বৃদ্ধ আঙ্গুলের সাথে মিলিত দুআঙ্গুল দ্বারা [বর্ণনাকারী বলেন :] আমরা বুঝলাম যে [বৈধতার পরিমাণ] জানিয়ে তিনি পাড় ইত্যাদি উদ্দেশ্য করিয়াছেন।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ২৫ হাদীস নং ৫৮২৮; মুসলিম পর্ব ৩৭/ হাঃ ২০৬৯] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৪২. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] আমাকে একজোড়া রেশমী কাপড় দিলেন। আমি তা পরিধান করলাম। তাহাঁর মুখমণ্ডলে গোস্বার ভাব দেখিতে পেয়ে আমি আমার মহিলাদের মাঝে তা ভাগ করে দিয়ে দিলাম।

[বোখারী পর্ব ৫১ অধ্যায় ২৭ হাদীস নং ২৬১৪; মুসলিম ৩৭/১ হাঃ ২০৭১] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৪৩. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

শুবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এ কথা কি নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত? তিনি জোর দিয়ে বললেনঃ হ্যাঁ। নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরিধান করিবে, সে আখিরাতে তা কখনও পরিধান করিতে পারবে না।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ২৫ হাদীস নং ৫৮৩২; মুসলিম পর্ব ৩৭/ হাঃ ৬০৭৩] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৪৪. উকবাহ ইবনি আমির [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ নাবী [সাঃআঃ]-কে একটা রেশমী জুব্বা হাদিয়া হিসেবে দেয়া হয়েছিল। তিনি তা পরিধান করে সলাত আদায় করিলেন। কিন্তু সলাত শেষ হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত তা খুলে ফেললেন, যেন তিনি তা পরা অপছন্দ করছিলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ মুত্তাকীদের জন্যে এ পোশাক সমীচীন নয়।*

[বোখারী পর্ব ৮ অধ্যায় ১৬ হাদীস নং ৩৭৫; মুসলিম ৩৭/১৫, হাঃ ২০৭৫] *পুরুষের জন্য রেশমি কাপড় পরিধান হারাম হওয়ার পূর্বের ঘটনা এটি। অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/৩. চুলকানি বা চর্মরোগের কারণে পুরুষের জন্য রেশমি কাপড় ব্যবহার বৈধ।

১৩৪৫. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] আবদুর রহমান ইবনি আওফ [রাদি.] ও যুবায়র [রাদি.]-কে তাহাদের শরীরে চুলকানি থাকায় রেশমী জামা পরিধান করিতে অনুমতি দিয়েছিলেন।

[বোখারী পর্ব ৫৬ অধ্যায় ৯১ হাদীস নং ২৯১৯; মুসলিম ৩৭/৩ হাঃ ২০৭৬] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/৫. হিবরা কাপড় পরিধানের মর্যাদা।

১৩৪৬ . ক্বাতাদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আনাস [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করলামঃ কোন্ জাতীয় কাপড় রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট অধিক প্রিয় ছিল? তিনি বললেনঃ হিবারা-ইয়ামনী চাদর।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ১৮ হাদীস নং ৫৮১২; মুসলিম ৩৭/৫, হাঃ ২০৭৯] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/৬. পোষাকে বিনয়ী হওয়া শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক মোটা কাপড়কে যথেষ্ট মনে করা, কম মূল্যের পোষাক, কম্বল, বিছানা ব্যবহার করা, উটের লোম থেকে তৈরি কাপড় আর তাতে যা উপাদেয় পাওয়া যায় তা ব্যবহার করা বৈধ।

১৩৪৭. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর চাদর গায়ে দিয়ে সলাত আদায় করিলেন। চাদরটি ছিল কারুকার্য খচিত। তিনি কারুকার্যের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকালেন, তারপর সালাম ফিরিয়ে বললেনঃএ চাদরটি আবু জাহমের কাছে নিয়ে যাও। কারণ, এখনই তা আমাকে সলাত থেকে অন্যমনস্ক করে দিয়েছে। আর আবু জাহম ইবনি হুযাইসলামিক ফাউন্ডেশনর আনবিজানিয়্যা [কারুকার্যবিহীন চাদর]-টি আমার জন্যে নিয়ে এসো। সে হচ্ছে আদী ইবনি কাব গোত্রের লোক।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ১৯ হাদীস নং ৫৮১৮; মুসলিম] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/৭. কার্পেট ব্যবহার করা বৈধ।

১৩৪৮. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করিলেন, তোমাদের নিকট আনমাত [গালিচার কার্পেট] আছে কি? আমি বললাম আমরা তা পাব কোথায়? তিনি বলিলেন, শীঘ্রই তোমরা আনমাত লাভ করিবে। তখন আমি আমার স্ত্রীকে বলি, আমার বিছানা হইতে এটা সরিয়ে দাও। তখন সে বলিল, নাবী [সাঃআঃ] কি বলেননি যে, শীঘ্রই তোমরা আনমাত পেয়ে যাবে? তখন আমি তা রাখতে দেই।

[বোখারী পর্ব ৬১ অধ্যায় ২৫ হাদীস নং ৩৬৩১; মুসলিম ৩৭/৭, হাঃ ২০৮৩] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/৯. অহঙ্কার করে কাপড় ছেচড়ানো হারাম এবং কাপড় কতটুকু লটকানো জায়িয এবং এর মুস্তাহাব বিধান কী?

১৩৪৯. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ সে ব্যক্তির দিকে [রহমতের দৃষ্টিতে] তাকাবেন না, যে অহঙ্কারের সাথে তার [পরিধেয়] পোশাক টেনে চলে।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ১ হাদীস নং ৫৭৮৩; মুসলিম ৩৭/৮, হাঃ ২০৮৫] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৫০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ ক্বিয়ামাতের দিন সে ব্যক্তির দিকে [রহমতের] দৃষ্টি দিবেন না, যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশে লুঙ্গি [পোশাক] ঝুলিয়ে পরে।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৫ হাদীস নং ৫৭৮৮; মুসলিম ৩৭/৩৯, হাঃ ২০৮৭] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/১০. পোষাকের পারিপাট্যে অতি উৎফুল্ল হয়ে গর্বভরে চলার নিষিদ্ধতা।

১৩৫১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] তথা আবুল কাসিম বলেছেনঃ এক ব্যক্তি আকর্ষণীয় জোড়া কাপড় পরিধান করতঃ চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে পথ অতিক্রম করছিল; হঠাৎ আল্লাহ তাকে মাটির নীচে ধ্বসিয়ে দেন। ক্বিয়ামাত অবধি সে এভাবে ধ্বসে যেতে থাকিবে।

{বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৫ হাদীস নং ৫৭৮৯, মুসলিম ৩৭/১০ হাঃ ২০৮৮] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/১১. স্বর্ণের আংটি ছুঁড়ে ফেলে দেয়া।

১৩৫২. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৪৫ হাদীস নং ৫৮৬৪; মুসলিম ৩৭/১১, হাঃ ২০৮৯] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৫৩. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] একটি স্বর্ণের আংটি তৈরি করালেন এবং তিনি তা পরিধান করিতেন। পরিধানকালে তার পাথরটি হাতের ভিতরের দিকে রাখলেন। তখন লোকেরাও [এরূপ] করিল। এরপর তিনি মিম্বরের উপর বসে তা খুলে ফেললেন এবং বললেনঃ আমি এ আংটি পরিধান করেছিলাম। এবং তার পাথর হাতের ভিতরের দিকে রেখেছিলাম। অতঃপর তিনি তা ছুড়ে ফেলে দিলেন। আর বললেনঃ আল্লাহ্‌র কসম! আমি এ আংটি আর কোনদিন পরিধান করব না! তখন লোকেরাও আপন আপন আংটিগুলো খুলে ফেলল।

[বোখারী পর্ব ৮৩ অধ্যায় ৬ হাদীস নং ৬৬৫১; মুসলিম ৩৭/১১ হাদীস নং ২০৯১] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/১২. মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] রৌপ্যের আংটি পরিধান করেছিলেন যাতে খোদাই করা ছিল মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ। তার পরে তাহাঁর খালীফাগণ সেটা পরিধান করেছিলেন।

১৩৫৪. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রূপার একটি আংটি তৈরী করেন। সেটি তাহাঁর হাতে ছিল। এরপর তা আবু বকর [রাদি.] -এর হাতে আসে। পরে তা উমার [রাদি.]-এর হাতে আসে। এরপর তা উসমান [রাদি.]-এর হাতে আসে। শেষকালে তা আরীস নামক এক কূপের মধ্যে পড়ে যায়। তাতে অঙ্কিত ছিল মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ[আরবী]।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৫০ হাদীস নং ৫৮৭৩; মুসলিম ৩৭/১২ হাঃ ২০৯১] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৫৫. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] একটি আংটি তৈরী করেন। তারপর তিনি বলেনঃ আমি একটি আংটি তৈরী করেছি এবং তাতে একটি নক্সা করেছি। সুতরাং কেউ যেন নিজের আংটিতে নক্সা না করে। তিনি [আনাস] বলেনঃ আমি যেন তাহাঁর কনিষ্ঠ আঙ্গুলে আংটিটির দ্যূতি [এখনও] দেখিতে পাচ্ছি।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৫১ হাদীস নং ৫৮৭৪; মুসলিম ৩৭/১২ হাঃ ২০৯২] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/১৩. নাবী [সাঃআঃ]-এর আংটি পরিধান করা, যখন তিনি অনারবদের নিকট পত্র লেখার ইচ্ছে করিলেন।

১৩৫৬. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] একখানা পত্র লিখলেন অথবা একখানা পত্র লিখতে ইচ্ছে পোষণ করিলেন। তখন তাঁকে বলা হল, তারা [রোমবাসী ও অনারবরা] সীলমোহর ব্যতীত কোন পত্র পাঠ করেনা। অতঃপর তিনি রূপার একটি আংটি [মোহর] তৈরি করিয়ে নিলেন যাতে খোদিত ছিল [মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ]। আমি যেন তাহাঁর হাতে সে আংটির শুভ্রতা দেখিতে পাচ্ছি।

[বোখারী পর্ব ৩ অধ্যায় ৭ হাদীস নং ৬৫; মুসলিম ৩৭/১২ হাঃ ২০৯২] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/১৪. আংটি ছুঁড়ে ফেলে দেয়া।

১৩৫৭. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি একদিন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর হাতে রূপার একটি আংটি দেখেছেন। তারপর লোকেরাও রূপার আংটি তৈরি করে এবং ব্যবহার করে। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পরে তাহাঁর আংটি পরিহার করেন। লোকেরাও তাহাদের আংটি পরিহার করে।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৪৭ হাদীস নং ৫৮৬৮; মুসলিম ৩৭/১৪, হাঃ ২০৯৩] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/১৯. যখন জুতা পরবে তখন ডান পা এবং যখন জুতা খুলবে তখন বাম পা দ্বারা আরম্ভ করিবে।

১৩৫৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ জুতা পরিধান করে তখন সে ডান দিক থেকে আরম্ভ করে, আর যখন খোলে তখন সে যেন বাম দিকে আরম্ভ করে, যাতে পরার বেলায় উভয় পায়ের মধ্যে ডান পা প্রথমে হয় এবং খোলার সময় শেষে হয়।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৩৯ হাদীস নং ৫৮৫৬; মুসলিম ৩৭/১৯, হাঃ ২০৯৭] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৫৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ এক পায়ে জুতা পরে যেন না হাঁটে। হয় উভয় পা সম্পূর্ণ খোলা রাখবে অথবা উভয় পায়ে পরিধান করিবে।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৪০ হাদীস নং ৫৮৫৫; মুসলিম ৩৭/১৯, হাঃ ২০৯৭] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/২২. চিত হয়ে এক পা আরেক পা-র উপর রেখে শোয়া বৈধ।

১৩৬০. আবদুল্লাহ ইবনি যায়দ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ]-কে মাসজিদে চিত হয়ে এক পায়ের উপর আরেক পা রেখে শুয়ে থাকতে দেখেছেন।

[বোখারী পর্ব ৮ অধ্যায় ৮৫ হাদীস নং ৪৭৫; মুসলিম ৩৭/২২, হাঃ ২১০০] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/২৩. পুরুষের জন্য জাফরান রং ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

১৩৬১. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] পুরুষদের জাফরানী রং-এর কাপড় পরিধান করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৩৩ হাদীস নং ৫৮৪৬; মুসলিম ৩৭/২৩, হাঃ ২১০১] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/২৫. রঙে ইয়াহূদীদের বিরোধিতা করা।

১৩৬২. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] বলেছেন, ইয়াহূদী ও নাসারারা রং লাগায় না। অতএব তোমরা তাহাদের বিপরীত কাজ কর।

[বোখারী পর্ব ৬০ অধ্যায় ৫০ হাদীস নং ৩৪৬২; মুসলিম ৩৭/২৫ হাঃ ২১০৩] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/২৬. যে ঘরে কুকুর ও ছবি আছে সে ঘরে মালাইকাহ প্রবেশ করে না।

১৩৬৩. আবু ত্বলহা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে বাড়িতে কুকুর থাকে আর প্রাণীর ছবি থাকে সেথায় ফেরেশতা প্রবেশ করে না।

[বোখারী পর্ব ৫৯ অধ্যায় ৭ হাদীস নং ৩২২৫; মুসলিম ৩৭/২৬ হাঃ ২১০৬] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৬৪. আবু ত্বলহা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, যে বাড়িতে প্রাণীর ছবি থাকে সেখানে ফেরেশতা প্রবেশ করে না। বুস্‌র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, অতঃপর যায়িদ ইবনি খালিদ [রাদি.] রোগাক্রান্ত হন। আমরা তাহাঁর সেবার জন্য গেলাম। তখন আমরা তাহাঁর ঘরে একটি পর্দায় কিছু ছবি দেখিতে পেলাম। তখন আমি [বুস্‌র] ওবায়দুল্লাহ খাওলানী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-কে জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কি আমাদের নিকট ছবি সম্পর্কীত হাদীস বর্ণনা করেননি? তখন তিনি বলিলেন, তিনি বলেছেন, প্রাণীর; তবে কাপড়ের মধ্যে কিছু অংকণ করা নিষিদ্ধ নয়, তুমি কি তা শুননি? আমি বললাম, না। তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, তিনি তা বর্ণনা করিয়াছেন।

[বোখারী পর্ব ৫৯ অধ্যায় ৭ হাদীস নং ৩২২৬; মুসলিম ৩৭/২৬ হাঃ ২১০৬] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৬৫. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [তাবূক যুদ্ধের] সফর থেকে প্রত্যাগমন করিলেন। আমি আমার কক্ষে পাতলা কাপড়ের পর্দা টাঙিয়েছিলাম। তাতে ছিল [প্রাণীর] অনেকগুলো ছবি। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন এটা দেখলেন, তখন তা ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেনঃ ক্বিয়ামাতের দিন সে সব মানুষের সবচেয়ে কঠিন আযাব হইবে, যারা আল্লাহ্‌র সৃষ্টির [প্রাণীর] অনুরূপ তৈরী করিবে। আয়েশা [রাদি.] বলেনঃ এরপর আমরা তা দিয়ে একটি বা দুটি বসার আসন তৈরী করি।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৯১ হাদীস নং ৫৯৫৪; মুসলিম ৩৭/২৬, হাঃ ২১০৭] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৬৬. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তিনি একটি ছবিওয়ালা বালিশ ক্রয় করেন। আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] তা দেখিতে পেয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন, ভিতরে প্রবেশ করিলেন না। আমি তাহাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টির ভাব দেখিতে পেলাম। তখন বললাম, হে আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ]! আমি আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের কাছে তাওবাহ করছি। আমি কী অপরাধ করেছি? তখন আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] বলিলেন, এ বালিশের কী ব্যাপার? আয়েশা [রাদি.] বলেন, আমি বললাম, আমি এটি আপনার জন্য ক্রয় করেছি, যাতে আপনি টেক লাগিয়ে বসতে পারেন। তখন আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] বলিলেন, এই ছবি তৈরিকারীদের ক্বিয়ামাতের দিন শাস্তি দেয়া হইবে। তাহাদের বলা হইবে, তোমরা যা তৈরী করেছিলে, তা জীবিত কর। তিনি আরো বলেন, যে ঘরে এ সব ছবি থাকে, সে ঘরে [রহমতের] মালাইকা প্রবেশ করেন না।

[বোখারী পর্ব ৩৬ অধ্যায় ৪০ হাদীস নং ২১০৫; মুসলিম ৩৭/২৬, হাঃ ২১০৭] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৬৭. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যারা এই ছবি তৈরী করে তাহাদেরকে কিয়ামাত দিবসে শাস্তি প্রদান করা হইবে এবং বলা হইবে তোমরা যা তৈরী করেছিলে তাতে জীবন দান কর।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৮৯ হাদীস নং ৫৯৫১; মুসলিম ৩৭/২৬ হাঃ ২১০৮] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৬৮. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, [ক্বিয়ামাতের দিন] মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হইবে তাহাদের, যারা ছবি বানায়।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৮৯ হাদীস নং ৫৯৫০; মুসলিম ৩৭/২৬, হাঃ ২১০৯] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৬৯. সাঈদ ইবনি আবুল হাসান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমন সময়ে তাহাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলিল, হে আবু আব্বাস! আমি এমন ব্যক্তি যে, আমার জীবিকা হস্তশিল্পে। আমি এসব ছবি তৈরী করি। ইবনি আব্বাস তাঁকে বলেন, [এ বিষয়ে] আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ]-কে আমি যা বলিতে শুনিয়াছি, তাই তোমাকে শোনাব। তাঁকে আমি বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি কোন ছবি তৈরী করে আল্লাহ তাআলা তাকে শাস্তি দিবেন, যতক্ষণ না সে তাতে প্রাণ সঞ্চার করে। আর সে তাতে কখনো প্রাণ সঞ্চার করিতে পারবে না। [এ কথা শুনে] লোকটি ভীষণভাবে ভয় পেয়ে গেল এবং তার চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। এতে ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিলেন, আক্ষেপ তোমার জন্য, তুমি যদি এ কাজ না-ই ছাড়তে পার, তবে এ গাছপালা এবং যে সকল বস্তুতে প্রাণ নেই, তা তৈরী করিতে পার।

[বোখারী পর্ব ৩৪ অধ্যায় ১০৪ হাদীস নং ২২২৫; মুসলিম ৩৭/২৬, হাঃ ২১১০] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৭০. আবু যুরআ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু হুরাইরাহ [রাদি.]-এর সাথে মাদীনাহর এক ঘরে প্রবেশ করি। ঘরের উপরে এক ছবি নির্মাতাকে তিনি ছবি তৈরী করিতে দেখলেন। তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি: [আল্লাহ বলেছেন] ঐ ব্যক্তির চেয়ে অধিক যালিম আর কে, যে আমার সৃষ্টির অনুরূপ কোন কিছু সৃষ্টি করিতে যায়? তা হলে তারা একটি দানা সৃষ্টি করুক অথবা একটি অণু পরিমাণ কণা সৃষ্টি করুক?

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৯০ হাদীস নং ৫৯৫৩; মুসলিম ৩৭/২৬, হাঃ ২১১১] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/২৮. উটের গলায় ধনুকের রশির গোলাকার মাল্য পরানো মাকরূহ।

১৩৭১. আবু বাশীর আল-আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কোন এক সফরে তিনি আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ছিলেন। [রাবী] আবদুল্লাহ্ বলেন, আমার মনে হয়, তিনি [আবু বাশীর আনসারী] বলেছেন যে, মানুষ শয্যায় ছিল। তখন আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] একজন সংবাদ বহনকারীকে পাঠালেন যে, কোন উটের গলায় যেন ধনুকের রশির মালা কিংবা মালা না ঝুলে, আর ঝুললে তা যেন কেটে ফেলা হয়। [জাহেলী যুগে উটের গলায় এক ধরণের মালা এ উদ্দেশ্যে লটকানো হতো যাতে উট নজর লাগা থেকে রক্ষা পায়। আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] এই ভ্রান্ত ধারণা দূরীকরণের জন্যে এই নির্দেশ প্রদান করেন।]

[বোখারী পর্ব ৫৬ অধ্যায় ১৩৯ হাদীস নং ৩০০৫; মুসলিম ৩৭/২৮ হাঃ ২১১৫] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/৩০. পশুর গায়ে চিহ্ন লাগানো মুখ বাদ দিয়ে যাকাত ও জিযিয়ার পশুর চিহ্ন লাগানো উত্তম।

১৩৭২. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ উম্মু সুলাইম [রাদি.] যখন একটি সন্তান প্রসব করিলেন তখন আমাকে জানালেন, হে আনাস! শিশুটিকে দেখ, যেন সে কিছু না খায়, যতক্ষণ না তুমি একে নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট নিয়ে যাও, তিনি এর তাহনীক করবেন। আমি তাকে নিয়ে গেলাম। দেখলাম, তিনি একটি বাগানে আছেন, আর তাহাঁর পরনে হুরাইসিয়া নামের চাদর আছে। তিনি যে উটে করে মাক্কাহ বিজয়ের দিনে অভিযানে গিয়েছিলেন তার পিঠে ছিলেন।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ২২ হাদীস নং ৫৮২৪; মুসলিম ৩৭/৩০ হাঃ ২১১৯] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/৩১. মাথা মোড়ানোর পর এখানে ওখানে কিছু চুল ছেড়ে দেয়া মাকরূহ।

১৩৭৩. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কাযা করিতে তথা মাথা মোড়ানোর পর স্থানে স্থানে চুল রেখে দিতে নিষেধ করিয়াছেন।

[বোখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৭২ হাদীস নং ৫৯২১; মুসলিম ৩৭/৩১, হাঃ ২১২০] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/৩২. রাস্তার উপর বসা নিষিদ্ধ এবং রাস্তার হক্ব আদায় করা।

১৩৭৪. আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেন, তোমরা রাস্তার উপর বসা ছেড়ে দাও। লোকজন বলিল, এ ছাড়া আমাদের কোন পথ নেই। কেননা, এটাই আমাদের উঠাবসার জায়গা এবং এখানেই আমরা কথাবার্তা বলে থাকি। নাবী [সাঃআঃ] বলেন, যদি তোমাদের সেখানে বসতেই হয়, তবে রাস্তার হক আদায় করিবে। তারা বলিল, রাস্তার হক্ব কী? তিনি বলিলেন, দৃষ্টি অবনমিত রাখা, কষ্ট দেয়া হইতে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেয়া, সৎকাজের আদেশ দেয়া এবং অন্যায় কাজে নিষেধ করা।

[বোখারী পর্ব ৪৬ অধ্যায় ২২ হাদীস নং ২৪৬৫; মুসলিম ৩৭/৩২ ২১২১] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/৩৩. পরচুলা লাগানোর কাজ করা বা নিজে লাগানো উলকির কাজ করা বা নিজে লাগানো, ভ্রু চিকন করা এবং আল্লাহ্‌র সৃষ্টির পরিবর্তন করা হারাম।

১৩৭৫. আসমা বিন্তে আবু বকর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

এক মহিলা নাবী [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করিল, হে আল্লাহর রসূল ! আমার এক মেয়ের বসন্ত রোগ হয়ে মাথার চুল পড়ে গেছে। আমি তাকে বিয়ে দিয়েছি। তার মাথায় কি পরচুলা লাগাব? তিনি বলেন, পরচুলা লাগিয়ে দেয় ও পরচুলা লাগিয়ে নেয় এমন নারীকে আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন।

[বোখারী পর্ব ৭৮ অধ্যায় ৮৫ হাঃ ৫৯৪১; মুসলিম ৩৭/৩৩] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৭৬. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কোন এক আনসারী মহিলা তার মেয়েকে শাদী দিলেন। কিন্তু তার মাথার চুলগুলো উঠে যেতে লাগল। এরপর সে নাবী [সাঃআঃ]-এর কাছে এসে এ ঘটনা বর্ণনা করে বলিল, আমার স্বামী আমাকে বলেছে আমি যেন আমার মেয়ের মাথায় কৃত্রিম চুল পরিধান করিয়ে দেই। তখন নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন, না তা করো না, কারণ, আল্লাহ্ তাআলা এ ধরনের মহিলাদের ওপর লানত বর্ষণ করে থাকেন, যারা মাথায় কৃত্রিম চুল পরিধান করে।

[বোখারী পর্ব ৬৭ অধ্যায় ৯৫ হাদীস নং ৫২০৫; মুসলিম ৩৭/৩৩ হাঃ ] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৭৭.আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্ লানাত করিয়াছেন ঐ সমস্ত নারীর প্রতি যারা অন্যের শরীরে উল্কি অংকণ করে, নিজ শরীরে উল্কি অংকণ করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্য ভূরু-চুল উপড়িয়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে। সে সব নারী আল্লাহ্‌র সৃষ্টিতে বিকৃতি আনয়ন করে। এরপর বানী আসাদ গোত্রের উম্মে ইয়াকূব নামের এক মহিলার কাছে এ সংবাদ পৌঁছলে সে এসে বলিল, আমি জানতে পারলাম, আপনি এরকম এরকম মহিলাদের প্রতি লানত করছেন। তিনি বলিলেন, আমি তার প্রতি লানত করব না কেন? তখন মহিলা বলিল, আমি দু ফলকের মাঝে যা আছে তা [পূর্ণ কুরআন] পড়েছি। কিন্তু আপনি যা বলেছেন, তা তো এতে পাইনি। আবদুল্লাহ্ [রাদি.] বলিলেন, যদি তুমি কুরআন পড়তে তাহলে অবশ্যই তা পেতে, তুমি কি পড়নি? রসূল  [সাঃআঃ] তোমাদেরকে যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা হইতে বিরত থাক। মহিলাটি বলিল, হাঁ নিশ্চয়ই পড়েছি। আবদুল্লাহ্ [রাদি.] বলিলেন, রসূল  [সাঃআঃ] এ কাজ করিতে নিষেধ করিয়াছেন। তখন মহিলা বলিল, আমার মনে হয় আপনার পরিবারও এ কাজ করে। তিনি বলিলেন, তুমি যাও এবং ভালভাবে দেখে এসো। এরপর মহিলা গেল এবং ভালভাবে দেখে এলো। কিন্তু তার দেখার কিছুই দেখিতে পেলো না। তখন আবদুল্লাহ্ [রাদি.] বলিলেন, যদি আমার স্ত্রী এমন করত, তবে সে আমার সঙ্গে একত্র থাকতে পারত না।

[বোখারী পর্ব ৬৫ সূরা [৫৯] আল-হাশর অধ্যায় ৪ হাদীস নং ৪৮৮৬; মুসলিম ৩৭/৩৩, হাঃ ২১২৫] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৭৮. হুমায়দ ইবনি আবদুর রাহমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি মুআবিয়া ইবনি আবু সুফ্ইয়ান [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছেন যে, তার হাজ্জ পালনের বছর মিম্বরে নববীতে উপবিষ্ট অবস্থায় তাহাঁর দেহরক্ষীদের কাছ থেকে মহিলাদের একগুচ্ছ চুল নিজ হাতে নিয়ে তিনি বলেন যে, হে মীনাবাসী! কোথায় তোমাদের আলিম সমাজ? আমি নাবী [সাঃআঃ]-কে এ রকম পরচুলা ব্যবহার হইতে নিষেধ করিতে শুনিয়াছি। তিনি বলেছেন, বনী ইসরাঈল তখনই ধ্বংস হয়, যখন তাহাদের মহিলাগণ এ ধরনের পরচুলা ব্যবহার করিতে শুরু করে।

[বোখারী পর্ব ৬০ অধ্যায় ৫৪ হাদীস নং ৩৪৬৮; মুসলিম ৩৭/৩৩ হাঃ ২১২৭] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭/৩৫. পোশাকে ধোঁকা বাজি করা এবং [স্বামী যে পোশাক] না দিয়েছে তার বড়াই করা নিষিদ্ধ।

১৩৭৯. আসমা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন যে, কোন একজন মহিলা বলিল, হে আল্লাহ্‌র রসূল  [সাঃআঃ]! আমার সতীন আছে। এখন তাকে রাগানোর জন্য যদি আমার স্বামী আমাকে যা দেয়নি তা বাড়িয়ে বলি, তাতে কি কোন দোষ আছে? রসূল  [সাঃআঃ] বললেনঃ যা তোমাকে দেয়া হয়নি, তা দেয়া হয়েছে বলা ঐরূপ প্রতারকের কাজ, যে প্রতারণার জন্য দুপ্রস্থ মিথ্যার পোশাক পরল।

[বোখারী পর্ব ৬৭ অধ্যায় ১০৭ হাদীস নং ৫২১৯; মুসলিম ৩৭/৩৫, হাঃ ২১৩০] অলঙ্কার -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

By লুলু ওয়াল মারজান

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply