নতুন লেখা

অবৈধ সম্পর্ক বিষয়ক হাদিস উপদেশ মূলক

অবৈধ সম্পর্ক বিষয়ক হাদিস উপদেশ মূলক

অবৈধ সম্পর্ক বিষয়ক হাদিস , এই অধ্যায়ে মোট (১০৩-১১১) =৯টি হাদীস >> উপদেশ হাদিস এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৮ঃ অবৈধ সম্পর্ক

পরিচ্ছেদঃ অবৈধ সম্পর্ক

১০৩. উবাদাহ ইবনি ছামেত [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেন, তোমরা আমার নিকট হইতে আল্লাহর বিধান গ্রহণ কর, কথাটি রাসূল [সাঃআঃ] দুবার বলিলেন। আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য নির্ধারণ করিয়াছেন, অবিবাহিত নারী-পুরুষকে একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন করিতে হইবে। আর বিবাহিত নারী-পুরুষকে রজম করিতে হইবে

[মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৩৫৫৮; বঙ্গানুবাদ মেশকাত ৭ম খণ্ড, হাদিস/৩৪০২]। অবৈধ সম্পর্ক বিষয়ক হাদিস -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তিন শ্রেণীর লোকের সঙ্গে আল্লাহ তাআলা ক্বিয়ামতের দিন কথা বলবেন না। তাদের তিনি পবিত্রও করবেন না। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা হচ্ছেন [১] বৃদ্ধ যেনাকার [২] মিথ্যাবাদী শাসক এবং [৩] অহঙ্কারী দরিদ্র ব্যক্তি

[মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৫১০৯; বঙ্গানুবাদ মেশকাত ৯ম খণ্ড, হাদিস/৪৮৮২]। অবৈধ সম্পর্ক বিষয়ক হাদিস -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০৫. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, এমন মুসলমানের রক্ত হালাল নয়, যে সাক্ষ্য দেয় আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] আল্লাহর রাসূল। তবে তিন শ্রেণীর মানুষকে হত্যা করিতে হয়। [১] এমন মানুষ যে বিবাহ করার পর যেনা করিল। তাকে রজম করিতে হইবে। [২] এমন ব্যক্তি যে আল্লাহ এবং তাহাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে অবস্থান করিল, তাকে হত্যা করা হইবে, না হয় শূলী দেওয়া হইবে, না হয় যমীন হইতে নির্বাসন করা হইবে। [৩] এমন ব্যক্তি যে কাউকে হত্যা করিল, তাকে হত্যা করা হইবে

[আবু দাউদ হাদিস/৪৩৫৩]। অবৈধ সম্পর্ক -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০৬. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নবী করীম [সাঃআঃ] বলেছেন, আদম সন্তানের উপর যেনার একটি অংশ লিখা হয়েছে। সে তা পাবেই। মানুষের দুচোখের যেনা দেখা। দুকানের যেনা শুনা। জিহ্বার যেনা কথা বলা। হাতের যেনা স্পর্শ করা। পায়ের যেনা যেনার পথে চলা। অন্তরের যেনা হচ্ছে আকাঙ্ক্ষা করা। লজ্জাস্থান তার সত্য মিথ্যা প্রমাণ করে

[মুসলিম হাদিস/২৬৫৭; মেশকাত হাদিস/৮৬ ঈমান অধ্যায়]। অবৈধ সম্পর্ক বিষয়ক হাদিস -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০৭. ওছমান ইবনি আবিল আছ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, অর্ধরাতে আকাশের দরজা খোলা হয়। তখন আল্লাহ আহ্বান করে বলেন, কোন প্রার্থনাকারী আছে কি তার প্রার্থনা কবুল করা হইবে? কোন সাহায্য প্রার্থী ব্যক্তি আছে কি তাকে সাহায্য করা হইবে? কোন সংকটে নিমজ্জিত ব্যক্তি আছে কি তার সংকট দূর করা হইবে? এ সময় কোন মুসলমান দোআ করলে তার দোআ কবুল করা হয়। তবে অশ্লীল কাজে লিপ্ত যে নারী তার প্রার্থনা কবুল হয় না। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাহাঁর মাখলূকের পাশে থাকেন। যে ক্ষমা চায় তাকে ক্ষমা করেন। তবে যে নারী অশ্লীল কাজে লিপ্ত তাকে ক্ষমা করেন না

[আহমাদ, আত-তারগীব হাদিস/৩৪২০]।অবৈধ সম্পর্ক বিষয়ক হাদিস -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০৮. আব্দুল্লাহ ইবনি যায়েদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূল [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উপর যে ব্যাপারে বেশী ভয় করি তা হচ্ছে যেনা ও গোপন প্রবৃত্তি

[আত-তারগীব হাদিস/৩৪১৯]। অবৈধ সম্পর্ক -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০৯. আবু ওমামা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূল [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমি একদা ঘুমিয়ে ছিলাম আমার পাশে দুজন লোক আসল, তারা আমার বাহু ধরে নিয়ে যেতে লাগল। হঠাৎ দেখি আমি কিছু লোকের পাশে যারা খুব ফুলে আছে তাদের গন্ধ এতবেশী যেন মনে হচ্ছে ভাগাড়। আমি বললাম এরা কারা? নবী করীম [সাঃআঃ] বলিলেন, এরা ব্যাভিচারী-ব্যাভিচারিণী

[আত-তারগীব হাদিস/৩৪২৪]। অবৈধ সম্পর্ক বিষয়ক হাদিস -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১০. বুরায়দা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

একদা মায়েয ইবনি মালেক [রাদি.] নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বলিলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]! আমাকে পবিত্র করুন। তিনি বলিলেন, আক্ষেপ তোমার প্রতি, চলে যাও, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং তওবা কর। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি চলে গেলেন এবং সামান্য একটু দূরে গিয়েই পুনরায় ফিরে আসলেন এবং আবারও বলিলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]! আমাকে পবিত্র করুন। নবী করীম [সাঃআঃ] এবারও তাঁকে পূর্বের ন্যায় বলিলেন। এইভাবে তিনি যখন চতুর্থবার এসে বলিলেন। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করিলেন, আচ্ছা! আমি তোমাকে কোন্ জিনিস হইতে পবিত্র করব? তিনি বলিলেন, যিনা হইতে। তাহাঁর কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [ছাহাবাদেরকে] জিজ্ঞেস করিলেন, লোকটি কি পাগল? লোকেরা বলল, না তো? তিনি পাগল নন। তিনি আবার বলিলেন, লোকটি কি মদ পান করেছে? তৎক্ষণাৎ এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে তাহাঁর মুখ শুঁকে দেখেন; কিন্তু মদের কোন গন্ধ তাহাঁর মুখ হইতে পাওয়া গেল না। অতঃপর তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কি সত্যই যিনা করেছ? তিনি বলিলেন, জি হ্যাঁ। এরপর তিনি রজমের নির্দেশ দিলেন, তখন তাঁকে রজম করা হল। এই ঘটনার দুই/তিন দিন পর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [ছাহাবাদের সম্মুখে] এসে বলিলেন, তোমরা মায়েয ইবনি মালেকের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। কেননা সে এমন তওবাই করেছে, যদি তা সমস্ত উম্মতের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া হয়, তবে তা সকলের জন্য যথেষ্ট হইবে।

অতঃপর আয্দ বংশের গামেদী গোত্রীয় একটি মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]! আমাকে পবিত্র করুন। তিনি বলিলেন, তোমার প্রতি আক্ষেপ! চলে যাও, আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার কর এবং তওবা কর। তখন মহিলাটি বলল, আপনি মায়েয ইবনি মালেককে যেভাবে ফিরিয়ে দিয়েছেন আমাকেও কি সেভাবে ফিরিয়ে দিতে চান? দেখুন, আমার এই গর্ভ যিনার! তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কি [সত্যই গর্ভবতী]? মহিলাটি বলল, জি হ্যাঁ।

অতঃপর তিনি বলিলেন, যাও, তোমার পেটের বাচ্চা প্রসব হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা কর। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আনছারী এক লোক মহিলাটির সন্তান প্রসব হওয়ার সময় পর্যন্ত তাকে নিজের তত্ত্বাবধানে নিয়ে গেলেন। সন্তান প্রসব হওয়ার পর ঐ লোকটি নবী করীম [সাঃআঃ]-এর খেদমতে এসে বলল, হুযুর! গামেদী মহিলাটির গর্ভ খালাছ হয়ে গিয়েছে। এবার তিনি বলিলেন, এই শিশু বাচ্চাটিকে রেখে আমরা মহিলাটিকে রজম করিতে পারব না। এমতাবস্থায় যে, তাকে দুধ পান করাবার মত কেউই নেই। এমন সময় আর একজন আনছারী দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর নবী! আমিই তার দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করব। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তাকে রজম করিলেন ।

অন্য এক রেওয়ায়াতে আছে, নবী করীম [সাঃআঃ] মহিলাটিকে বলিলেন, তুমি চলে যাও এবং সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা কর। অতঃপর সন্তান প্রসবের পর যখন আসল, তখন বলিলেন, আবারও চলে যাও এবং তাকে দুধ পান করাও এবং দুধ ছাড়ান পর্যন্ত অপেক্ষা কর। পরে যখন বাচ্চাটির দুধ খাওয়া বন্ধ হয়, তখন মহিলাটি বাচ্চার হাতে এক খণ্ড রুটির টুকরা দিয়ে তাকে সঙ্গে করে রাসূল [সাঃআঃ]-এর খেদমতে উপস্থিত হল। এইবার মহিলাটি বলল, হে আল্লাহর নবী! এই দেখুন [বাচ্চাটির] দুধ ছাড়ান হয়েছে, এমনকি সে নিজের হাতের খানাও খেতে পারে। তখন রাসূল [সাঃআঃ] বাচ্চাটিকে একজন মুসলমানের হাতে তুলে দিলেন। পরে মহিলাটির জন্য গর্ত খোঁড়ার নির্দেশ দিলেন। অতএব তার জন্য বক্ষ পর্যন্ত গর্ত খনন করা হল। তৎপর লোকদেরকে নির্দেশ করিলেন, তারা মহিলাটিকে রজম করিল। খালেদ ইবনি ওয়ালীদ [রাদি.] সম্মুখে অগ্রসর হয়ে তার মাথায় একখণ্ড পাথর নিক্ষেপ করিতেই রক্ত ছিটে এসে তাহাঁর মুখমণ্ডলের উপর পড়ল। তাই তিনি মহিলাটিকে ভর্ৎসনা ও তিরস্কার করে গাল-মন্দ করিলেন। [এটা শুনে] নবী করীম [সাঃআঃ] বলিলেন, হে খালেদ, থাম! সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! মহিলাটি এমন [খালেছ] তওবা করেছে, যদি কোন বড় যালেমও এই ধরনের তওবা করে, তারও মাগফেরাত হয়ে যাবে। অতঃপর তিনি তার জানাযা পড়ার আদেশ করিলেন। অতঃপর তার জানাযা পড়লেন এবং তাকে দাফনও করা হল

[মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৩৫৬২]। অবৈধ সম্পর্ক বিষয়ক হাদিস -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১১. সামুরা ইবনি জুনদুব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ]-এর অভ্যাস ছিল তিনি ফজরের ছালাত শেষে প্রায় আমাদের দিকে মুখ করে বসতেন এবং জিজ্ঞেস করিতেন, তোমাদের কেউ আজ রাত্রে কোন স্বপ্ন দেখেছ কি? বর্ণনাকারী বলেন, আমাদের কেউ স্বপ্ন দেখে থাকলে সে তাহাঁর নিকট বলত। আর তিনি আল্লাহর হুকুম মোতাবেক তার তাবীর বর্ণনা করিতেন। যথারীতি একদিন সকালে জিজ্ঞেস করিলেন, তোমাদের কেউ [আজ রাত্রে] কোন স্বপ্ন দেখেছে কি? আমরা বললাম, না। তখন তিনি বলিলেন, কিন্তু আমি দেখেছি। আজ রাত্রে দুই ব্যক্তি আমার নিকট আসল এবং তারা উভয়ে আমার হাত ধরে একটি পবিত্র ভূমির দিকে [সম্ভবত তা শাম বা সিরিয়ার দিকে] নিয়ে গেল। দেখলাম, এক ব্যক্তি বসে আছে আর অপর এক ব্যক্তি লোহার সাঁড়াশি হাতে দাঁড়ানো। সে তা উক্ত বসা ব্যক্তির গালের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয় এবং তা দ্বারা চিরে গর্দানের পিছন পর্যন্ত নিয়ে যায়। অতঃপর তার দ্বিতীয় গালের সাথে অনুরূপ ব্যবহার করে। ইত্যবসরে প্রথম গালটি ভাল হয়ে যায়। আবার সে [প্রথমে যেভাবে চিরেছিল] পুনরায় তাই করে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি? তারা উভয়ে বলল, সামনে চলুন। সম্মুখের দিকে চললাম। অবশেষে আমরা এমন এক ব্যক্তির কাছে এসে পৌঁছলাম, যে ঘাড়ের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে রয়েছে, আর অপর এক ব্যক্তি একখানা ভারী পাথর নিয়ে তার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। সে তার আঘাতে শায়িত ব্যক্তির মাথা চুর্ণ-বিচুর্ণ করছে। যখনই সে পাথরটি নিক্ষেপ করে [মাথা চুর্ণ-বিচুর্ণ করে] তা গড়িয়ে দূরে চলে যায়, তখনই সে লোকটি পুনরায় পাথরটি তুলে আনতে যায় সে ফিরে আসার পূর্বে ঐ ব্যক্তির মাথাটি পূর্বের ন্যায় ঠিক হয়ে যায় এবং পুনরায় সে তা দ্বারা তাকে আঘাত করে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি? তারা উভয়ে বলল, সামনে চলুন। আমরা সম্মুখের দিকে অগ্রসর হলাম। অবশেষে একটি গর্তের নিকট এসে পৌঁছলাম, যা তন্দুরের মত ছিল। তার উপর অংশ ছিল সংকীর্ণ এবং ভিতরের অংশটি ছিল প্রশস্ত। তার তলদেশে আগুন প্রজ্জ্বলিত ছিল। আগুনের লেলিহান শিখা যখন উপরের দিকে উঠত, তখন তার ভিতরে যারা রয়েছে তারাও উপরে উঠে আসত এবং উক্ত গর্ত হইতে বাইরে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হত আর যখন অগ্নিশিখা কিছুটা শিথিল হত, তখন তারাও পুনরায় ভিতরের দিকে চলে যেত। তার মধ্যে রয়েছে কতিপয় উলঙ্গ নারী ও পুরুষ। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি? তারা উভয়ে বলল, সামনে চলুন, সুতরাং সম্মুখের দিকে অগ্রসর হলাম এবং একটি রক্তের নহরের নিকট এসে পৌঁছলাম। দেখলাম, তার মধ্যস্থলে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে এবং নহরের তীরে একজন লোক দণ্ডায়মান। আর তার সম্মুখে রয়েছে প্রস্তরখণ্ড। নহরের ভিতরের লোকটি যখন তা থেকে বের হওয়ার উদ্দেশ্যে কিনারার দিকে অগ্রসর হইতে চায়, তখন তীরে দাঁড়ানো লোকটি ঐ লোকটির মুখ লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে এবং সে লোকটিকে ঐ স্থানে ফিরিয়ে দেয় যেখানে সে ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি? সঙ্গীদ্বয় বলল, সামনে চলুন। আমরা সম্মুখে অগ্রসর হয়ে শ্যামল সুশোভিত একটি বাগানে পৌঁছলাম। বাগানে ছিল একটি বিরাট বৃক্ষ। আর উক্ত বৃক্ষটির গোড়ায় উপবিষ্ট ছিলেন, একজন বৃদ্ধ লোক এবং বিপুল সংখ্যক বালক। এ বৃক্ষটির সন্নিকটে আরেক ব্যক্তিকে দেখিতে পেলাম, যার সম্মুখে রয়েছে আগুন, যাকে সে প্রজ্বলিত করছে। এরপর আমার সঙ্গীদ্বয় আমাকে ঐ বৃক্ষের উপরে আরোহণ করালো এবং সেখানে তারা আমাকে বৃক্ষরাজির মাঝখানে এমন একখানা গৃহে প্রবেশ করালো যে, এরূপ সুন্দর ও মনোরম ঘর আমি আর কখনো দেখিনি। তার মধ্যে ছিল কতিপয় বৃদ্ধ, যুবক, নারী ও বালক। অনন্তর তারা উভয়ে আমাকে সে ঘর হইতে বের করে বৃক্ষের আরও উপরে চড়ালো এবং এমন একখানা গৃহে প্রবেশ করালো যা প্রথমটি হইতে সমধিক সুন্দর ও উত্তম। তাতেও দেখলাম, কতিপয় বৃদ্ধ ও যুবক। অনন্তর আমি উক্ত সঙ্গীদ্বয়কে বললাম, আপনারা উভয়েই তো আমাকে আজ সারা রাতে অনেক কিছু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখালেন। এখন বলেন, আমি যা কিছু দেখেছি তার তাৎপর্য কি? তারা উভয়ে বলল, হ্যাঁ, [আমরা তা জানাবো]। ঐ যে এক ব্যক্তিকে দেখেছেন সাঁড়াশি দ্বারা যার গাল চিরা হচ্ছে, সে মিথ্যাবাদী, সে মিথ্যা বলত এবং তার নিকট হইতে মিথ্যা রটানো হত। এমনকি তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ত। অতএব তার সাথে ক্বিয়ামত পর্যন্ত ঐ আচরণ করা হইবে, যা আপনি দেখেছেন। আর যে ব্যক্তির মস্তক পাথর মেরে ঘায়েল করিতে দেখেছেন, সে ঐ ব্যক্তি, আল্লাহ তাআলা যাকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছিলেন, কিন্তু সে কুরআন হইতে গাফেল হয়ে রাত্রে ঘুমাতো এবং দিনেও তার নির্দেশ মোতাবেক আমল করত না। সুতরাং তার সাথে ক্বিয়ামত পর্যন্ত ঐ আচরণই করা হইবে, যা আপনি দেখেছেন। আর [আগুনের] তন্দুরে যাদেরকে দেখেছেন, তারা হল যেনাকারী [নারী-পুরুষ]। আর ঐ ব্যক্তি যাকে [রক্তের] নহরে দেখেছেন, সে হল সুদখোর। আর ঐ বৃদ্ধ ব্যক্তি যাকে একটি বৃক্ষের গোড়ায় উপবিষ্ট দেখেছেন, তিনি হলেন হযরত ইবরাহীম [আঃ] তাহাঁর চতুস্পার্শ্বের শিশুরা হল মানুষের সন্তানাদি। আর যে লোকটিকে অগ্নিকুণ্ড প্রজ্বলিত করিতে দেখেছেন, সে হল দোযখের দারোগা মালেক। আর প্রথম যে ঘরটিতে আপনি প্রবেশ করেছিলেন, তা [জান্নাতের মধ্যে] সর্বসাধারণ মুমিনদের গৃহ। আর যে ঘর যে পরে দেখেছেন, তা শহীদদের ঘর। আর আমি হলাম, জিব্রাঈল এবং ইনি হলেন মীকাঈল। এবার আপনি মাথা উপরের দিকে তুলে দেখুন। তখন আমি মাথাটি তুলে দেখলাম, যেন আমার মাথার উপরে মেঘের মত কোন একটি জিনিস রয়েছে। অপর এক বর্ণনায় আছে, একের পর এক স্তরবিশিষ্ট সাদা মেঘের মত কোন জিনিস দেখলাম। তাঁরা বলিলেন, তা আপনারই বাসস্থান। আমি বললাম, আমাকে সুযোগ দিন আমি আমার ঘরে প্রবেশ করি। তারা বলিলেন, এখনও আপনার হায়াত বাকী আছে, যা আপনি এখনো পূর্ণ করেননি। আপনার যখন নির্দিষ্ট হায়াত পূর্ণ হইবে, তখন আপনি আপনার বাসস্থানে প্রবেশ করবেন

[বুখারী, মেশকাত হাদিস/৪৬২১; বাংলা মেশকাত হাদিস/৪৪১৬]। অবৈধ সম্পর্ক বিষয়ক হাদিস -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

সৃষ্টির প্রতি দয়া বিষয়ক উপদেশ মুলক হাদিস

সৃষ্টির প্রতি দয়া বিষয়ক উপদেশ মুলক হাদিস সৃষ্টির প্রতি দয়া বিষয়ক উপদেশ মুলক হাদিস , …

Leave a Reply

%d bloggers like this: