অনুমতি গ্রহন প্রসঙ্গে

অনুমতি গ্রহন প্রসঙ্গে

অনুমতি গ্রহন প্রসঙ্গে >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৭. অধ্যায়ঃ অনুমতি গ্রহন প্রসঙ্গে

৫৫১৯

বুস্‌র ইবনি সাঈদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] কে বলিতে শুনেছি, আমরা মাদীনার আনসারীদের একটি বৈঠকে উপবিষ্ট ছিলাম। সেময় আবু মূসা [রাদি.] অস্থির হয়ে, অথবা [বর্ণনাকারী বলেছেন] ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আমাদের নিকট এলেন। আমরা বললাম, আপনার সমস্যা কি? তিনি বলিলেন, উমর [রাদি.] আমার নিকট লোক প্রেরন করিলেন, যেন আমি তাহাঁর নিকট যাই। আমি তাহাঁর চৌকাঠে তিনবার সালাম করলাম। তিনি আমাকে উত্তর দিলেন না। তাই আমি ফিরে আসলাম। পরে আমাকে [ডেকে নিয়ে] তিনি বলিলেন, আমাদের নিকট আসতে কোন বিষয় তোমাকে নিষেধ করলো। অতঃপর আমি বললাম, আমি আপনার নিকট এসেছিলাম এবং আপনার চৌকাঠে [দাঁড়িয়ে] তিনবার সালাম করেছিলাম। তবে তারা [গৃহের কেউ] আমাকে সালামের উত্তর দিলেন না। তাই আমি ফিরে গেলাম। আর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে যদি কেউ তিনবার অনুমতি চায়, আর তাকে অনুমতি দেয়া না হয়, তাহলে সে যেন ফিরে আসে। সে সময় উমর [রাদি.] বলিলেন, এ ব্যাপারে প্রমান দাও। নতুবা তোমাকে প্রহার করব।

সে সময় উবাই ইবনি কাব [রাদি.] বলিলেন, তার সাথে গোষ্ঠীর সবচেয়ে অল্প বয়সের সন্তানই যাবে। আবু সাঈদ [রাদি.] বলিলেন, আমি বললাম, আমি গোষ্ঠীর কনিষ্ঠতম। তিনি বলিলেন, তবে একে নিয়ে যাও। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪১, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৬৩]

৫৫২০

ইয়াযীদ ইবনি খুসাইফাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

কুতাইবাহ্‌ ইবনি সাঈদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ও ইবনি আবু উমর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] … ইয়াযীদ ইবনি খুসাইফাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন এবং আবু উমর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর বর্ণিত হাদীসে বাড়তি বলেছেন যে, আবু সাঈদ [রাদি.] বলেন, সে সময় আমি তার সাথে উঠে দাঁড়ালাম এবং উমর [রাদি.] এর নিকট গিয়ে সাক্ষ্য প্রদান করলাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪২, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৬৮]

৫৫২১

আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা উবাই ইবনি কাব [রাদি.] এর নিকট একটি মাজলিসে ছিলাম। তখন আবু মূসা আশআরী [রাদি.] ক্রোধাম্বিত অবস্থায় এসে দাঁড়িয়ে বলিলেন, আমি তোমাদের আল্লাহ্‌র শফথ দিয়ে বলছি, তোমাদের মাঝে কেউ কি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছ যে, অনুমতি গ্রহণ তিনবার, এতে যদি তোমাকে অনুমতি দেয়া হয়, ভাল, নতুবা তুমি প্রত্যাবর্তন কর। উবাই [রাদি.] বলিলেন, তাতে কী হয়েছে? তিনি বলিলেন, গতকাল [খলীফা] উমর ইবনি খাত্তাব [রাদি.] এর নিকট আমি তিনবার অনুমতি চাইলাম। আমাকে অনুমতি দেয়া হয়নি। তারপর আমি প্রত্যাবর্তন করলাম। পরদিন তাহাঁর নিকট গমন করলাম এবং তাহাঁর নিকট প্রবেশ করে তাঁকে সংবাদ দিলাম যে, আমি গতকাল এসেছিলাম এবং তিনবার সালাম করে [উত্তর না পেয়ে] চলে গিয়েছিলাম। তিনি বলিলেন, আমরা তোমার শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা তখন ব্যস্ত ছিলাম। কিন্তু যে পর্যন্ত না তোমাকে অনুমতি দেয়া হয় সে পর্যন্ত তুমি তা চাইতে থাকলে না কেন? তিনি বলিলেন, আমি তো সে অনুমতি চেয়েছি, যেরূপ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছি। উমর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! তোমার পিঠে ও পেটে আঘাত করব; অথবা তুমি এমন ব্যক্তি পেশ করিবে, যে এ ব্যাপারে তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।

সে সময় উবাই ইবনি কাব [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! আমাদের মধ্যে সবচেয়ে অল্প বয়সের লোকই তোমার সঙ্গে যাবে; তিনি বলেন, হে আবু সাঈদ! দাঁড়াও, অতঃপর আমি দাঁড়ালাম এবং উমর [রাদি.] এর নিকট এসে বললাম, অবশ্যই আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে এ কথা বলিতে শুনেছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪৩, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৬৫]

৫৫২২

আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু মুসা [রাদি.] উমর [রাদি.] এর দরজায় এসে অনুমতি চাইলেন। উমর [রাদি.] [শব্দ শুনে মনে মনে] বলিলেন, একবার হলো। অতঃপর দ্বিতীয়বার অনুমতি চাইলেন। উমর [রাদি.] বলিলেন, দুবার হলো। অতঃপর তৃতীয়বার অনুমতি চাইলেন। উমর [রাদি.] বলিলেন, তিনবার হলো। অতঃপর তিনি প্রত্যাবর্তন করিলেন। পরে {উমর [রাদি.]} তাহাঁর পশ্চাতে লোক প্রেরণ করে তাকে ডেকে নিয়ে বলিলেন, এটি যদি এমন হয়, যা তুমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে সংরক্ষণ করেছ, তাহলে তা উপস্থাপন করো। নতুবা আমি তোমাকে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিব। আবু সাঈদ [রাদি.] বলেন, সে সময় তিনি আমাদের নিকট এসে বলিলেন, তোমরা কি জান না যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করেছেনঃ অনুমতি গ্রহণ তিনবার। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা তখন [এ কথা শুনে] হাসাহাসি করিতে লাগল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, তোমাদের নিকট একজন মুসলিম ভাই আগমন করিয়াছেন, যাকে ভয় দেখানো হয়েছে, আর তোমরা হাসছ? [তাঁকে বললাম] চলুন! এ শাস্তিতে আমি আপনার অংশীদার হবো। সে সময় তিনি [আমাকে সাথে নিয়ে] তার নিকট গিয়ে বলিলেন, এ যে আবু সাঈদ … [আমার সাক্ষী]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪৪, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৬৬]

৫৫২৩

আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মুহাম্মাদ ইবনিল মুসান্না এবং ইবনি বাশ্‌শার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আহ্‌মাদ ইবনি খিরাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] … আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে আবু মাসলামাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে নেয়া বিশ্‌র ইবনি মুফায্‌যাল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪৫, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৬৭]

৫৫২৪

উবায়দ ইবনি উমায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

[খলীফা] উমর [রাদি.] এর নিকট আবু মূসা [রাদি.] তিনবার অনুমতি প্রার্থনা করিলেন। তখন [উত্তর না পেয়ে] তিনি যেন তাঁকে ব্যতিব্যস্ত মনে করে চলে গেলেন। সে সময় উমর [রাদি.] বলিলেন, তুমি কি আবদুল্লাহ ইবনি কায়স [আবু মূসা] এর শব্দ শোননি? তোমরা তাকে অনুমতি দাও! সে সময় তাকে উমারের নিকট ডাকা হলো। তখন তিনি তাঁকে বলিলেন, এ রকম করিতে তোমাকে কোন্‌ বিষয় তোমাকে উৎসাহিত করেছে? তিনি বলিলেন, আমাদের এ রকম করার আদেশ করা হয়েছে। তিনি বলিলেন, নিশ্চয়ই তুমি এ বিষয়ে সাক্ষী হাজির করিবে, নতুবা অবশ্যই আমি এমন করবো অর্থাৎ শাস্তি দিবো। তিনি বেরিয়ে গিয়ে আনসারীদের এক বৈঠকে পৌছলেন। তাঁরা বলিলেন, আমাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সের লোকই এ ব্যাপারে তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।

তখন আবু সাঈদ [রাদি.] উঠলেন এবং বলিলেন, আমাদের এরূপই নির্দেশ দেয়া হয়। তখন উমর [রাদি.] বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর এ ব্যাপারটি আমার নিকট অজ্ঞাত রয়েছে। [কারন] বাজারের বাণিজ্যে আমাকে এ ব্যাপারে উদাসীন রেখেছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪৬, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৬৮]

৫৫২৫

ইবনি জুরায়জ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

মুহাম্মদ ইবনি বাশ্‌শার ও হুসায়ন ইবনি হুরায়স [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] … ইবনি জুরায়জ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে উক্ত সূত্রে হুবহু বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু বর্ণনাকারী নায্‌র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর বর্নিত হাদীসে বাজারের ক্রয়-বিক্রয় আমাকে এ বিষয় হইতে উদাসীন রেখেছে বাক্যটি বর্ণনা করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪৭, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৬৯]

৫৫২৬

আবু মূসা আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু বুরদাহ্‌ [রাদি.] এর সানাদে আবু মূসা আশআরী [রাদি.] হইতে বর্নিত। আবু বুরদাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আবু মূসা [রাদি.] উমর ইবনি খাত্তাব [রাদি.] এর নিকট এসে বলিলেন, আস্‌সালামু আলাইকুম- এ [আমি] আবদুল্লাহ ইবনি কায়স। তবে তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন না। তখন [পুনরায়] বলিলেন, আস্‌সালামু আলাইকুম- এ যে, আবু মূসা। আস্‌সালামু আলাইকুম- এ যে আশআরী। তারপর [উত্তর না পেয়ে] চলে গেলেন।

সে সময় উমর [রাদি.] বলিলেন, [তাকে] আমার নিকট ডেকে নিয়ে আসো। আমার নিকট ফিরিয়ে নিয়ে আসো। প্রত্যাবর্তন শেষে তিনি বলিলেন, কিসে তোমাকে ফিরিয়ে দিল, হে আবু মূসা? আমরা কোন্‌ কর্মে মশগুল ছিলাম। তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে আমি বলিতে শুনেছি- অনুমতি প্রার্থনা তিনবার। এতে তোমাকে অনুমতি দেয়া হলে ভাল, নতুবা ফিরে যাবে। উমর [রাদি.] বলিলেন, এ ব্যাপারে অবশ্যই তুমি আমার নিকট প্রমাণাদি নিয়ে আসবে। নতুবা আমি এমন করব, তেমন করব, [সাজা দিব]। তখন আবু মূসা [রাদি.] ফিরে গেলেন। উমর [রাদি.] বলিলেন, প্রমান যোগাড় করিতে পারলে, বিকালে তাকে তোমরা মিম্বারের নিকট দেখিতে পাবে, আর যদি প্রমান না পায়, তাহলে তোমরা তাঁকে দেখিতে পাবে না। বিকালে তিনি এলে তাঁরা তাঁকে [মিম্বারের নিকট দেখিতে] পেল। উমর [রাদি.] বলিলেন, হে আবু মূসা! কি বলছ? প্রমান পেয়েছ? তিনি বলিলেন, হাঁ- উবাই ইবনি কাব! তিনি বলিলেন, ইনি ন্যায়পরায়ণ! তারপর উবাই ইবনি কাব [রাদি.] কে লক্ষ্য করে বলিলেন- হে আবু তুফায়ল!{২৩} ইনি কী বলেন? তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে এমন বলিতে আমি শুনেছি- হে ইবনিল খাত্তাব! আপনি কখনো রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সহাবীগণের জন্য শাস্তি স্বরূপ হয়ে পরবেন না। তিনি বলিলেন, সুব্‌হানাল্লাহ্‌! [আমি তা কখনো চাই না]। আমি তো একটি বিষয় শোনার পর সে ব্যাপারে সুনিশ্চিত হইতে আমার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪৮, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৭০]

৫৫২৭

তাল্‌হাহ্‌ ইবনি ইয়াহ্‌ইয়া [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি উমর ইবনি মুহাম্মাদ ইবনি আবান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] … তাল্‌হাহ্‌ ইবনি ইয়াহ্‌ইয়া [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে এ সানাদে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু তিনি বলেছেন, উমর [রাদি.] [উবাইকে উদ্দেশ্য করে] বলিলেন, হে আবুল মুন্‌যির! আপনি কি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এ কথাটি শুনেছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। [তিনি আরো বলেন] হে ইবনিল খাত্তাব! আপনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সহাবীদের প্রতি শাস্তিদাতা স্বরূপ হইবেন না। তবে তিনি উমর [রাদি.] এর সুবহানাল্লাহ্‌ ও পরবর্তী উক্তিটি বর্ণনা করেন নি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪৯, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৭১]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply