অজ্ঞাত নারী পথ-শ্রান্ত হলে তাকে আরোহণের পিছে বসিয়ে দেয়া বৈধ

অজ্ঞাত নারী পথ-শ্রান্ত হলে তাকে আরোহণের পিছে বসিয়ে দেয়া বৈধ

অজ্ঞাত নারী পথ-শ্রান্ত হলে তাকে আরোহণের পিছে বসিয়ে দেয়া বৈধ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৪. অধ্যায়ঃ অজ্ঞাত নারী পথ-শ্রান্ত হলে তাকে আরোহণের পিছে বসিয়ে দেয়া বৈধ

৫৫৮৫

আসমা বিনতু আবু বাকর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যুবায়র [রাদি.] আমাকে বিবাহ করিলেন, সে সময় একটি ঘোড়া কোন যোগ্য সম্পদ, গোলাম বা অন্য কোন কিছু দুনিয়াতে তার ছিল না। তিনি বলেন, আমি তার ঘোড়াটাকে ঘাস খাওয়াতাম, তার পারিবারিক কাজকর্মেও সঙ্গ দিতাম। আমি তার যত্ন নিতাম, তার পানিবাহী উটের জন্যে খর্জুর বীচি কুড়াতাম, তাকে ঘাস খাওয়াতাম, পানি নিয়ে আসতাম, তার ঢোল ইত্যাদি মেরামত করতাম এবং [রুটির জন্য] আটা মাখতাম। তবে আমি ভাল রুটি বানাতে পারতাম না। তাই আমার কতিপয় আনসারী সাথীর মনিরা আমাকে রুটি পাকিয়ে দিত। তারা ছিল স্বার্থহীন রমণী। আমি যুবায়র-এর জমি থেকে যা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে জায়গীর রূপে দিয়েছিলেন [সেখান থেকে] খেজুর বীচি [কুড়িয়ে] আমার মাথায় করে বয়ে আনতাম। সে [জমি] ছিল এক ক্রোসের দু-তৃতীয়াংশ [প্রায় দুমাইল] দূরে অবস্থিত। তিনি বলেন, আমি একদিন আসছিলাম আর বীচি[-র বোঝা] আমার মাথায় ছিল। [পথে] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর দেখা পেলাম, সে সময় তাহাঁর সাথে সাহাবীগণের একটি ক্ষুদ্র দল ছিল। তিনি আমাকে ডাকলেন এবং [তাহাঁর বাহন উটটিকে বসাবার জন্যে] ইখ ইখ [আওয়াজ] করিলেন যাতে আমাকে সেটির পেছনে উঠিয়ে নিতে পারেন। তিনি {আসমা [রাদি.] } বলেন, আমি লজ্জাবোধ করলাম আর আমি ছিলাম তোমার {যুবায়র [রযিঃ] } আত্মমর্যাদাবোধ সম্পর্কে জ্ঞাত। তিনি {যুবায়র [রাদি.] } বলিলেন, আল্লাহর শপথ! তোমার মাথায় করে বীচি বয়ে আনাটা [আমার নিকট] তাহাঁর সাথে তোমার আরোহণের চাইতে অনেক কঠিন [ও কষ্টকর]। তিনি বলেন, অতঃপর [আব্বা] আবু বাকর [রাদি.] আমার নিকট একটি খাদিম প্রেরণ করিলেন। ঘোড়াটি দেখা-শুনার কাজে সে আমার পক্ষে যথেষ্ট হয়ে গেল। সে যেন আমাকে এ দায়িত্ব হইতে মুক্ত করেছিল।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫০৪, ইসলামিক সেন্টার- ৫৫২৯]

৫৫৮৬

ইবনি আবু মুলাইকাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আসমা [রাদি.] বলেছেন, আমি পারিবারিক কাজে যুবায়র [রাদি.] -এর সেবা করতাম। তার একটি ঘোড়া ছিল। আমি [-ই] তা দেখাশুনা করতাম। ঘোড়াটির দেখাশুনা করার চেয়ে কোন কর্ম আমার নিকট ভারী ছিল না। আমি তার জন্যে ঘাস যোগাড় করতাম, তার দেখাশুনা ও সেবা-পরিচর্যা করিতে থাকতাম। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি একটি খাদিম পেলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর নিকট কিছু যুদ্ধবন্দী এলে তিনি তাকে একটি খাদিম দিলেন। তিনি {আসমা [রাদি.] } বলেন, সে [খাদিম] ঘোড়ার দেখাশুনায় আমার জন্যে যথেষ্ট হলো এবং আমি দায়িত্বমুক্ত হলাম।

তখন এক অভাবী লোক আমার নিকট এসে বলিল, হে আবদুল্লাহর মা! আমি একজন অভাবী মানুষ, আপনার গৃহের ছায়ায় বসে বেচাকেনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। তিনি বলিলেন, তোমাকে আমি অনুমতি দিয়ে ফেললে যুবায়র [রাদি.] [সম্ভবত] তা বাতিল করিবে। তাই এক কাজ করো, যুবায়র [রাদি.] উপস্থিত থাকা অবস্থায় তুমি এসে আমার নিকট প্রস্তাব করিবে। ঠিক সময় এসে সে বলিল, হে আবদুল্লাহর মা! আমি একজন অভাবী মানুষ, আপনার গৃহের ছায়ায় বসে বেচাকেনা করার ইচ্ছা করেছি। তিনি বলিলেন, আমার গৃহ ব্যতীত তোমার জন্যে মাদীনায় আর কোন স্থান নেই [কি]? সে সময় যুবায়র [রাদি.] তাকে বলিলেন, একটা অভাবী মানুষকে ক্রয়-বিক্রয় করিতে দিতে তুমি বাঁধা হয়ে দাড়াঁচ্ছো কেন? তারপর সে [সেথায়] ক্রয়-বিক্রয় করে [বেশকিছু] আয় করিল, আমি খাদিমটি তার নিকট বিক্রি করে দিলাম। এ সময় যুবায়র [রাদি.] আমার নিকট প্রবেশ করিল-তখন ও তার [বিক্রয়কৃত] মুল্য আমার কোলের উপর ছিল। সে বলিল ওগুলো আমাকে দান করে দাও। তিনি বলেন, [আমি বললাম] , আমি ওগুলো সদাকাহ করে দিয়েছি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫০৫, ইসলামিক সেন্টার- ৫৫৩০]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply